প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ও ব্লগার নিলাদ্রী নিলয় হত্যার ঘটনায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত খাইরুল জঙ্গি সংগঠনটির গোয়েন্দা শাখার অন্যতম সদস্য। চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার নির্দেশে বিভিন্ন জঙ্গি তৎপরতা চালাতেন তিনি। এরইমধ্যে খাইরুল মুক্তচিন্তার লেখক অভিজিৎ রায়ের হত্যার ভিডিও ফুটেজ দেখে ৪ জঙ্গিকে সনাক্ত।
ব্লগার নিলাদ্রী চ্যাটার্জী নিলয় ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে খাইরুল ইসলাম নামে এক জঙ্গিকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার সাংগঠনিক নাম জামিল, রিফাত, ফাহিম ওরফে জিসান।
খাইরুল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গোয়েন্দা শাখার শীর্ষ পর্যায়ের সদস্য বলে দাবি করছে পুলিশ।
এছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা, চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার নির্দেশে কাজ করতেন খাইরুল ইসলাম। নিলয় ও দীপন হত্যার পূর্বে তাদের সব তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল তার।
এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন গোপন আস্তানায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন খাইরুল। সবশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর চাকুরিচ্যুত মেজর জিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মুক্তচিন্তার লেখক অভিজিৎ রায়ের হত্যার পর পুলিশের প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ছয় সন্দেহভাজনকে সনাক্ত করা হয়। সেই ফুটেজ দেখে ৪ জঙ্গিকেও সনাক্ত করেছে খাইরুল।
গত বছরের ৭ অগাস্ট ঢাকার গোড়ানে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা ব্লগার নিলয়কে। এরপর ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসব হত্যা্কাণ্ডে আনসারুল্লাহ জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যািকাণ্ডে দোষী সাব্যিস্ত হয়ে কারাগারে আছেন।