স্থানীয় রাজনীতিকদের দ্বন্দ্বের সুযোগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গতকাল পুলিশ সদরদপ্তরে জমা দেয়া চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলার পেছনে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।
এদিকে, জেলে বাড়িতে রোববারের আগুনের মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় পুলিশের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেয়।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত স্থানীয় চেয়ারম্যান ও একই দলের অপর এক নেতার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় একটি পক্ষ এ হামলা চালিয়েছে বলে পুলিশ বলছে। তবে ওই তৃতীয় পক্ষটি কে তা স্পষ্ট করেনি পুলিশ।
নাসিরনগরে হামলার পর থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ বিভিন্ন বক্তব্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। হামলার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে তিন জনকে বহিস্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ।
এদিকে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার জেলে পল্লীর ছোট্ট লাল দাসের বাড়িতে হামলার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুরের ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শন করতে বিশিষ্টজনেরা যাচ্ছেন নাসিরনগরে।
মঙ্গলবার দুপুরে নাসিরনগর যান জাসদ সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু জাফর বলেন, রোববার ভোরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ছুট্টু লাল দাস বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননার পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তরা ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এ ঘটনার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকলেও ৩ দফায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।