বাংলাদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও ঝুঁকির বিচারে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের সূচকে তিন ধাপ পিছিয়েছে।
সংস্থারটির প্রকাশিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩ দেশের তালিকার ২২তম জায়গায়।
বাংলাদেশের স্কোর এবার ৬.৪৭৯। ৫.৯২১ স্কোর নিয়ে গতবছর এ সূচকে বাংলাদেশ ছিল ২৫তম স্থানে। আর ২০১৪তে ছিল ২৩ নম্বরে, স্কোর ছিল ৫.২৫।
গতবছর ২০১৫ সালের সন্ত্রাসী হামলা ও তৎপরতার তথ্যোর ভিত্তিতে ২০১৬ সালের এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। স্কোর সমান হওয়ায় ১৬৩ দেশের এবারের সূচকে ক্রম রয়েছে ১৩০টি।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় গতবছর কঠিন সময় পার করেছে বাংলাদেশ। এতো সন্ত্রাসী হামলা বা হত্যাৈর ঘটনা সম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে ঘটেনি।
প্রতিবেদনে, গতবছর বাংলাদেশে মোট ৪৫৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে যাতে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ৭৫ জন।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস মতে, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) মত স্থানীয় নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোই বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১৫ সালেই প্রথমবারের মত বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলায় আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা ও আইএস এর নাম এসেছে ওইসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন।
চলতি বছর ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জন্যসও জেএমবিকে দায়ী করা হয়েছে, তবে চলতি বছরের কোনো ঘটনার তথ্য চলতি বছরের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে ব্যলবহার করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরো উঠে এসেছে, ২০১৫ সালে বিশ্বে যতগুলো সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার ৪% ঘটেছে বাংলাদেশে।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের প্রতিবেদনে, গতবছর কুয়েত, বাংলাদেশ, তিউনিশিয়া, সৌদিআরব, ফ্রান্স ও তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। আর এসব হামলায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে আইএস বা তাদের সহযোগী কোনো জঙ্গিদল।
বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৬
সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যাচ, হতাহতের সংখ্যার ও সম্পদ ধ্বংসের প্রতিবেদন হিসাব করে ১০ ভিত্তিক স্কোর হিসাব করেছে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস। যে দেশের পয়েন্ট যত বেশি, সে দেশের পরিস্থিতি তত খারাপ।
গতবছর বিশ্বের ৭৬টি দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে আর ৫৩টি দেশের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যার মধ্যেি বাংলাদেশ একটি।
গত ২০১৫ সালে বিশ্বে যেসব সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেক ঘটেছে পাঁচ দেশে- ইরাক, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও সিরিয়া। সন্ত্রাসী হামলায় মোট মৃত্যুার ৭২ শতাংশ ঘটনা এসব দেশেই ঘটেছে।
গতবছর বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন মোট ২৯ হাজার ৩৭৬ জন, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কম।
সন্ত্রাসী হামলার কারণে গতবছর বিশ্বের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার পরিমাণ আট হাজার ৯৬০ কোটি ডলার। ক্ষতির এই সমপরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
গত ২০১৫ সালে মোট ২৭৪টি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন অন্তত একটি হামলায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যের ১০৩টি সংগঠন কাউকে হত্যা করেনি। আইএস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপ বিভিন্ন দেশে ২৮টি হামলা চালিয়েছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি
এবারের সূচকে সন্ত্রাসপ্রবণ দেশগুলোর শীর্ষ দশের প্রথম পাঁচটি নামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৯ দশমিক ৯৬ স্কোর নিয়ে এবারও বিশ্বের সবচেয়ে সন্ত্রাসপ্রবণ দেশ ইরাক। এর পরের চারটি দেশ গতবারের মতই আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও সিরিয়া।
তালিকার ৬ থেকে ১০ নম্বরে এবার রয়েছে ইয়েমেন, সোমালিয়া, ভারত, মিসর ও লিবিয়া।
পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে ছয় নম্বরে থাকা ভারত এবারের তালিকায় আছে ৮ নম্বরে। আগের প্রতিবেদনে দশম ক্রমে থাকা থাইল্যাতন্ডও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সাফল্যে দেখিয়ে এবার ১৫তম ক্রমে পৌঁছেছে। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আগের প্রতিবেদনে ১৩তম স্থানে থাকা মিসর এবার উঠে এসেছে ৯ নম্বরে।
সূচকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেঠ আফগানিস্তান ২, পাকিস্তান ৪, ভারত ৮, নেপাল ৩৯, শ্রীলঙ্কা ৫৩ ও ভুটান ১১৯তম অবস্থানে রয়েছে।
এ সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, গতবছর উন্নত অর্থনীতির ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এবারের সূচকে চীন ২৩, ফ্রান্স ২৯, রাশিয়া ৩০, সৌদি আরব ৩২, যুক্তরাজ্যর ৩৪ ও যুক্তরাষ্ট্র ৩৬তম অবস্থানে রয়েছে।