গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার ১১দিন পর বৃহস্পতিবার মামলা করা হয়েছে। জামিন পেয়েছেন আটক দুই সাঁওতাল।
এ মামলায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন স্বপন মুর্মু নামের এক সাঁওতাল। এর আগে ঘটনার দিন রাতে পুলিশ বাদি হয়ে সাড়ে তিনশো জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে।
এদিকে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের নির্বিঘ্নে ধান কাটার অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া সাঁওতালদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
এছাড়া নিজের রোপন করা ধান কেটে আদৌ তা ঘরে আনা যাবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গাইবান্ধা হামলার শিকার সাঁওতাল পল্লীর মানুষেরা। উপজেলার জয়পুর ও মাদারপুরে ১৩০ একর জমি ঘিরে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ধান ঘরে আনতে না পারলে নির্ঘাত না খেয়েই থাকতে হবে বলে শঙ্কা তাদের। জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও জানান কেউ কেউ। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, জমির ধান কারা পাবে তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ বেষ্টনীর মধ্যে পড়েছে জয়পুর ও মাদারপুরের সাঁওতালদের ১৩০ একর জমি। এরমধ্যে কিছু জমির ধান পেকেও গেছে। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধে যখন আদিবাসী আর কল কর্তৃপক্ষ মুখোমুখী সেখানে ধান কাটতে যাওয়ার সাহসই পাচ্ছেন না সাঁওতালরা।
অবিলম্বে কাঁটাতারের বেড়া তুলে ফেলে তাই জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করছেন তারা।
ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে সারা বছর খাবেন কী?
এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের তবে, খামারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধান নষ্ট করা হয়নি। ধান কারা পাবে সে সিদ্ধান্তও এখনও হয়নি জানান সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের উপ-মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন