সন্ত্রাসবাদের সূচকে বাংলাদেশ আরো পিছিয়েছে। গতবারের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থার অবনমন ঘটেছে তিন ধাপ। নিরাপত্তা বিশ্লষকেরা বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও এর জন্য দায়ী। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তায় জড়িত রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। সরকার তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে তা হবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা।
গত ২০১৫ সালে বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলা ও তৎপরতার তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স ২০১৬ প্রকাশ করেছে। এই সূচক অনুযায়ী, ৬ দশমিক চারশো ৭৯ স্কোর নিয়ে এবার বাংলাদেশ একশো ৬৩ দেশের মধ্যে ২২তম অবস্থানে রয়েছে। গতবার বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৫ তম। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গতবছর বাংলাদেশে মোট চারশো ৫৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৫ জন। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলায় আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা ও আইএসের নাম এসেছে। যেসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বিশ্বে যতগুলো সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তার ৪ শতাংশ ঘটে বাংলাদেশে। তবে এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বিশ্লষকরা কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন।
তারা আরো বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যতোটা না বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট, তার চেয়ে অনেক বেশি স্থানীয় রাজনীতি সম্পৃক্ত। আর এসব সন্ত্রাসে অর্থের যোগান দিচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র।
এখনই সরকার সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে কঠোরভাবে দমন করতে না পারলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।