অপরাধ

আশকোনায় জঙ্গি অভিযান সমাপ্ত: একাধিক গ্রেনেড-অস্ত্র উদ্ধার

আশকোনায় জঙ্গিদের ফ্ল্যাটের ভেতরে একাধিক গ্রেনেড, উদ্ধার চলছে
আশকোনায় জঙ্গিদের ফ্ল্যাটের ভেতরে একাধিক গ্রেনেড, উদ্ধার চলছে

রাজধানীর আশকোনায় জঙ্গিদের একটি আস্তানায় অভিযান শেষ করার একদিন পরেও- রোববার সেখান থেকে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে জঙ্গি কিশোর আফিফ কাদরীর মরদেহ।

পুলিশ বলছে, সূর্যভিলা নামের তিন তলা বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে একটির পর একটি গ্রেনেড উদ্ধার করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের সময় ঘরের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি সুইসাইডাল ভেস্ট এবং গ্রেনেড পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধারকারী দল।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি গ্রেনেডের পিন খোলা ছিল সেগুলো যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারত। উদ্ধারের পর সেগুলো নিষ্ক্রীয় করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে তারা দেখতে পান ভেতরে 'জঙ্গি কিশোর' আফিফ কাদরীর মরদেহ পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, তার মৃতদেহের পাশে পড়ে ছিল একটি ফায়ার আর্মস, কিছু গ্রেনেড এবং একটি সুইসাইডাল ভেস্টও।

সকাল থেকে রাজধানীর আশকোনার সূর্য ভিলা বাড়ির ভেতরে জঙ্গিদের ঘরের মধ্যে পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাস নিঃসরণ করে দমকল বাহিনীর সদস্যরা। তারা জানায়, ঘরগুলোতে প্রচুর গ্যাস জমে থাকায় সময় লেগেছে বেশি।

এরপর গ্রেনেড নিষ্ক্রিয়ের কাজ শুরু করে ডিএমপির বোম ডিস্পোজাল ইউনিট। দিনভর দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট ও বেশ কয়েকটি গ্রেনেড নিষ্ক্রীয় করেন তারা। সন্ধ্যায় অভিযান শেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নব্য জেএমবির অর্থদাতা নিহত তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফের মরদেহ পরে আছে ঘরের ভিতর। ডিএমপির ক্রাইম সিন সুরত হাল রিপোর্ট শেষ কারার পর মরদেহ বের করা হবে বলে জানা গেছে।

দুপুরের তথ্য:

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন যিনি এই অভিযান পরিচালনা করেন।

দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে তিনি বলেন, বাইরে থেকে তারা দেখতে পান কয়েকটি গ্রেনেডের পিন খোলা।

তিনি বলেন, তিনটি গ্রেনেডের পিন খোলা— মনে হচ্ছে জঙ্গিরা এগুলো দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তখন বিস্ফোরিত হয়নি। সেগুলো ফায়ার্ড অবস্থায় রয়েছে।

অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় শনিবার বিকেলে কিন্তু আজ- রোববার দুপুর পর্যন্তও পুলিশ ফ্ল্যাটের সবকটি কক্ষের ভেতরে ঢুকতে পারেনি।

পুলিশ বলছে, তারা ধীরে ধীরে সবকটি ঘরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন— তৃতীয় রুমটিতে তারা এখনও ঢুকতে পারেন নি।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, ঘরের ভেতরে ঢোকার পর প্রথম কক্ষটিতে বেল্টের মতো পেঁচানো একটি জিনিস, তার ভেতরে গ্রেনেডের মতো ছটি বস্তু এবং তার পাশে একটি সুইচ ও ব্যাটারি পড়েছিলো। দেখে মনে হয় সেটা একটা সুইসাইডাল ভেস্ট। ইতিমধ্যেই এটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই রুম থেকে বাকি দুটো রুমে যাওয়ার পথে সেখানেও আরো একটি সুইসাইডাল ভেস্ট পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে যেটি নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে।

পুলিশ বলছে, বাড়িটির ভেতরে তারা এপর্যন্ত দুটো সুইসাইডাল ভেস্ট দেখতে পাচ্ছেন।

অভিযান শেষ হয়ে যাওয়ার এতো সময় পরেও ভেতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না কেনো জানতে চাইলে ছানোয়ার হোসেন বলেন, ভেতরে ঢোকাটা একটু কষ্টকর। কারণ গতকালের অভিযানের সময় এর ভেতরে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হয়েছিলো। এই গ্যাসের কারণে ভেতরে যাওয়া যাচ্ছে না। এখন ভেতরে বাতাস প্রবাহ করার মাধ্যমে এই গ্যাস পরিষ্কার করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, জানালা দিয়ে দেখতে গেলেও চোখে ও নাকে ওই গ্যাসের ঝাঁঝ লাগছে। ভেতরের গ্যাস পরিষ্কার করার কাজ শেষ হলেই তারা পুরো বাড়িটির ভেতরে ঢুকতে পারবেন বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

পুলিশ বলছে, ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে মোট তিনটি কক্ষ আছে। জানালা দিয়ে তারা দুটো ঘর আর রান্না ঘরের ভেতরে দেখতে পাচ্ছেন। রান্না ঘরেও কিচেন ক্যাবিনেটের ওপর একটি গ্রেনেড পড়ে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, খাটের পাশে ফ্লোরের ওপর একটি গ্রেনেড পড়ে আছে— আরেকটি রয়েছে ড্রেসিং টেবিলের ওপরে। রান্না ঘরের তাকের ওপরে একটি গ্রেনেড দেখা যাচ্ছে।

পুলিশ বলছে, এপর্যন্ত তারা ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে ১৬টির মতো গ্রেনেড দেখতে পেয়েছেন।

ছানোয়ার হোসেন জানান, তারা খুব সতর্কতার সাথে কাজ করছেন। কারণ তারা নিশ্চিতভাবে জানেন না কোন গ্রেনেড কি অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, দেখে মনে হচ্ছে এসব ভেস্ট ও গ্রেনেড আস্তানায় ভেতরেই জঙ্গিদের হাতে বানানো। এসবের উপকরণ হয়তো এদিক সেদিক থেকেও আসতে পারে।

ঢাকায় এর আগে পুলিশ জঙ্গিদের যেসব আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে তার সাথে আশকোনার আস্তানার কতোটা মিল বা অমিল এই প্রশ্নের জবাবে ছানোয়ার হোসেন বলেন, আজিমপুরে চালানো অভিযানের সাথে এর কিছুটা মিল আছে। কারণ সেখানেও নারী ও শিশুরা অবস্থান নিয়েছিলো। তবে অন্যান্য অপারেশনের সাথে এর বড় রকমের তফাৎ রয়েছে কারণ আশকোনায় তারা ভেতরে অবস্থানকারী নারী ও শিশুদেরকে নিরাপদে এবং সমঝোতার মাধ্যমে বের করে আনার চেষ্টা করেছেন।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ওই বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

'অপারেশন রিপল ২৪' নামে ওই অভিযানে নিহত হন দুই 'জঙ্গি'। তাদের মধ্যে একজন নারী আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোর ঘটিয়ে নিজেকে হত্যা করে ।

আত্মসমর্পণ করেন দুই শিশুসহ দু'জন নারী। আহত এক শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ