অপরাধ

সাংবাদিক শিমুল হত্যায় আরো ৪ জন গ্রেপ্তার

 সাংবাদিক শিমুল হত্যায় আরো ৪ জন গ্রেপ্তার
সাংবাদিক শিমুল হত্যায় আরো ৪ জন গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলিতে নিহত সমকালের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার ঘটনায় শনিবার আরো চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে শাহজাদপুরে আজ সকাল থেকে আধাবেলা হরতাল পালন করা হয়।

শনিবার বেলা পৌনে ১১ টার দিকে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আব্দুল হাকিম শিমুলের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মানুষের ঢল নামে।

এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, নির্বাহী অফিসার মামুন আল রাজি, থানার ওসি রেজাউল হক, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, সমকালের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক তপন দাস, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজল এ খোদা লিটন ও শিমুলের ছোট ভাই আজাদ বক্তব্য রাখেন।

জানাযায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। পরে শিমুলের মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ি মাদলা-কাকিলাবাড়ীতে নেয়া হয়। এরপর কাকিলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় জানাযা শেষে মাদলা-কাকিলাবাড়ী কবরস্থানে দাফন করা হয় শিমুলের মরদেহ।

এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম গতকাল শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের পর পুলিশ পৌর মেয়রের লাইসেন্স করা শটগান জব্দ করে এবং তার ভাইকে আটক করে। পৌর মেয়র পলাতক রয়েছে।

আজ ভোরে উপজেলার ছয়আনি গ্রাম থেকে শিমুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা কে এম নাসির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ৩ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসির উপজেলার ছয়আনি গ্রামের লাফা মিয়ার ছেলে এবং তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) আবুল হাসানাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শিমুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাসির। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বাকি তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে পৌর মেয়রের দুই ভাই হাসিবুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত: বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাফিজুল হক পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থক, কলেজছাত্ররা ও মহল্লার লোকজন একযোগে বেলা ৩টার দিকে মেয়রের বাসায় হামলা চালান। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে হালিমুল হক মিরু তার শর্টগান থেকে গুলি ছোড়েন।

এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন হাকিম। সংঘর্ষের সময় তার মাথা ও মুখে গুলি লাগে। তাকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনার পথে তিনি মারা যান।

জানা গেছে শিমূলের মৃত্যুর খবর শুনে তার নানী মারা গেছেন।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ