গণজাগরণের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামি রেজওয়ানুল আজাদ রানাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
সোমবার দুপুরে ২টার দিকে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান।
এর আগে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ। রায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়।
এ রায়ের পর মামলার নথিপত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে— পরে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিতায় উঠে। গত বছরের ৭ নভেম্বর হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসি দেন আদালত। ওই ২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। বাকি ৫ জনের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।
মুফতি মো. জসীমউদ্দীন রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে আর সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরুর দশম দিনে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। এ ঘটনায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের করা মামলার তদন্তে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে উঠে আসে।
মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ ওই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ আর এ বছরের ১৮ মার্চ তাদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, জসীমউদ্দীন রাহমানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুটি মসজিদে জুমার খুতবায় ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে এমন ব্লগারদের হত্যার ফতোয়া দিতেন।
অন্য আসামিরা সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তারা ওই খুতবা শুনতেন। এভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। জসীমউদ্দীনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে বাকি আসামিরা ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। রাহমানকে ওই হত্যাকাণ্ডে উৎসাহদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।