রাজধানীর গাবতলী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে।
আদালতের রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকার গাবতলীতে তাণ্ডব চালায়।
দারুসসালাম থানার উপ-পরিদর্শক নওসের আলী বলেন, তিন মামলায় ৪৮ জনের নাম করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার রাতে দুই পুলিশ সদস্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এক নারী দারুসসালাম থানায় মামলা তিনটি দায়ের করেন।
এসআই নওসের বলেন, পুলিশের করা একটি মামলায় সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে, দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা আইনে।
এক নারী তৃতীয় মামলাটিতে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনেছে।
বাস ও ট্রাক এ দুই চালকের সাজার রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে বিকেল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকার গাবতলীতে নিজেদের অবস্থান নেয়, পরে রাত থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রাতভর দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর সকালে আবারো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আমিন বাজার সেতুর দক্ষিণ দিক থেকে মাজার রোডের প্রবেশ মুখ পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকার অন্যরতম প্রধান এ প্রবেশ পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় সংবাদ মাধ্যামে গাড়ি, পুলিশের রেকারসহ বিভিন্ন যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের করা হয়। সংঘর্ষের মধ্যেয় আহত এক বাসচালক হাসপাতালে মারা যান।
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতের দেয়া এ সাজার বিরুদ্ধে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।
তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও খুলনা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বক্স দুদু বলেন, তারা সোমবার খুলনা বিভাগের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সভায় আলোচনার সময় খবর আসে ঢাকার আদালতে সাভারে সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি মামলায় মীর হোসেন মিরুর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মালিক-শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হন। পরে রাতে বৈঠকের পর দেশব্যাপী ধর্মঘট ডাকা হয়।
মঙ্গলবার ভোর থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘট পালন করে।
গতকাল সচিবালয়ে বেলা ১১ টার দিকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা আলোচনার করা হয়।
পরে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।