ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া নব্য জেএমবির কথিত আধ্যাত্মিক নেতা দিনাজপুরের এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মওলানা আবুল কাশেম বছর খানেক ধরেই ছিলেন নিখোঁজ।
এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে মাদ্রাসাটিতে অভিযানও চালিয়েছে। আর পুলিশের আনাগোনায় একই মাদ্রাসায় পড়ুয়া তার তিন ছেলেও এখন পলাতক রয়েছে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া ইউনিয়নের অকড়াবাড়ি হামিদিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ৮ থেকে ৯ মাস অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছিলেন জঙ্গি নেতা আবুল কাশেম।
গত ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের বেতন নেয়ার পর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে যান তিনি এরপর আর আসেননি।
স্থানীয়দের মতে, তার কথাবার্তা ও ব্যবহার অত্যন্ত ভাল ছিল।
ছুটিতে যাওয়ার ৩ থেকে ৪ মাস পর পুলিশ তাকে খুঁজতে আসলে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা জানতে পারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলে জানান মাদ্রাসা কমিটি সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ শাহ।
ওই মাদ্রাসায় জঙ্গি আবুল কাশেমের ৩ ছেলেও লেখাপড়া করতো। কিন্তু পুলিশ আসার পর তারাও মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে।
জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আবুল কাশেমের জড়িত থাকার তথ্য পুলিশের কাছে আগেই ছিল কিন্তু অভিযানের আগেই মাদ্রাসা থেকে সটকে পড়েন আবুল কাশেম বলে জানান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম।
জানা গেছে, মাওলানা আবুল কাশেম নামে দিনাজপুরের এক সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর জঙ্গি দমনে অভিযানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ৬০ বছর বয়সী কাশেমই নব্য জেএমবির ‘আধ্যাত্মিক নেতা’। সংগঠনে তাকে ডাকা হয় ‘বড় হুজুর’ হিসেবে।
গতকাল- শুক্রবার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তামিম চৌধুরী ও মাওলানা মো. আবুল কাশেমের যৌথ প্রয়াসে বাংলাদেশে নব্য-জেএমবির জঙ্গিবাদি কার্যক্রমের সূচনা হয়।
তিনি আরো বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দুটি দল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে মাওলানা কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে।