বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রায় মাস খানের পরে ধর্ষণের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীর ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া গেলেও, প্রকৃত ঘটনা প্রমানে কোন বাঁধা তৈরির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা। আসামীপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার যে চেষ্টা তা ব্যর্থ হয়েছে।
আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও মোবাইলে ধারণ করা ধর্ষণের ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা। তারা এও মনে করেন মামলার তদন্তটি এখন নিরাপদ ও সঠিক পথেই এগুচ্ছে।
তবে ইতোমধ্যে আসামীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ধর্ষণের সময় ধারণ করা ফুটেজ, রেইন্ট্রি হোটেলের জব্দ করা সার্ভারও পরীক্ষা করেছে তদন্ত কর্মকর্তরা।
এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া গেলেও অপরাধ প্রমানে এতে কোন আসুবিধা হবে না।
তারা বলছেন তদন্তের শুরুতে আসামীপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে, তবে তা ব্যর্থ হচ্ছে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠু ও সঠিক পথে চলছে বলে মনে করেন তারা।
গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। ৬ মে এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা করেন এক শিক্ষার্থী। মামলায় প্রধান আসামি সাফাত আহমেদসহ ৫ আসামীই এখন কারাগারে রয়েছেন।