বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আপন জুয়েলার্সের ৫টি শোরুম থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরা চূড়ান্তভাবে জব্দ করছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এসব সোনা-হীরা ঢাকা কাস্টমস হাউসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। এর আগে ১৮২ জন গ্রাহকের মধ্যে ৮৫ জনকে স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেন শুল্ক গোয়ন্দারা।
বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সাফাত আহমেদের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্স। মামলার পর থেকেই আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৪ ও ১৫ মে প্রতিষ্ঠানটির ৫টি শো-রুমে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা সাময়িকভাবে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দারা।
পরে স্বর্ণালঙ্কাগুলো আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠানের জিম্মায় দেওয়া হয়। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনে আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষকে ৩ বার শুনানির সুযোগ দেয়া হয়। দিলেও তারা এসব সোনা-হীরার কোনো বৈধ সনদ দেখাতে পারেনি।
আপন জুয়েলার্সের মালিক স্বর্ণাঙ্কারগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় রোববার সকাল ৯টার পর থেকে রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান অ্যাভিনিউ, উত্তরা, সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাকের ৫টি শাখায় একযোগে স্বর্ণাঙ্কার জব্দের কাজ শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।
জব্দ করা সোনা ও হীরা ঢাকা কাস্টমস হাউস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
আপন জুয়েলার্সের মালিক পক্ষের দেয়া ১৮২ গ্রাহকের মধ্যে ৮৫ জনকে মেরামতের জন্য রাখা স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেয়া হয়েছে আর ওর্ডারের স্বর্ণগুলোর বিষয়ে পরে জানানো হবে।