অপরাধ

বনানী ধর্ষণ: অভিযোগপত্রের মাধ্যমে দায়ীদের অপরাধ প্রমাণ হবে

বনানী ধর্ষণ
বনানী ধর্ষণ

বনানী রেইন্ট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের আদালতে জমা দেয়া অভিযোগপত্রের মাধ্যমে দায়ীদের অপরাধ প্রমাণ হবে বলে আশা করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা। তবে আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায়, রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে-এমন আশংকার কথাও জানান তারা।

মামলার অন্যতম আসামি সাফাত ও নাইম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিমকে ধর্ষক এবং বাকিদের সহযোগী করা হলেও পুলিশি তদন্তে রেইন্ট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষকে বাঁচানোর চেষ্টা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। আর অপরাধিদের শাস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিই যথেষ্ট বলে মনে করে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

রাজধানীর বনানীর রেইন্ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম। ধর্ষণের ভিডিও ধারণসহ ধর্ষকদের সহযোগিতা করে মামলার বাকি তিন আসামি সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আজাদ।

ধর্ষনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এরপর থেকেই সাফাত আর তার সহযোগীরা নানাভাবে হুমকি আর ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল তাদের। লোকলজ্জার ভয় আর মানসিক ধকল কাটিয়ে মাসখানেক পর মামলা করতে গেলে, মামলা নিতে টালবাহানা করে বনানী থানা। তদন্তে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান আলীর বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।

মামলা দায়েরের পরপরই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে ধরা পরে সিলেট থেকে মামলার প্রধান আসামি সাফাত ও আরেক আসামি সাদমান সাকিফ। এরপর গাড়ি চালক বেল্লাল ও দেহরক্ষী আজাদ ধরা পরে ঢাকা থেকে। মুন্সিগঞ্জ থেকে ধরা পরে অন্যতম আসামি আব্দুল হালিম। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহে ভিকটিমদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও, অনেকটা সময় পার হওয়ায়, ধর্ষনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে অপরাধ স্বীকার করে আদালতে আসামিদের জবানবন্দি ও দালিলিক প্রমাণ পাওয়ায় পুলিশ দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেয়। ডিএনএ আলামত না পেলেও আসামিদের অপরধা প্রমাণে কোনো বাঁধা নেই বলে মনে করছেন, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা।

বিচার প্রক্রিয়ার তিনধাপের একটি মাত্র সম্পন্ন হয়েছে, আরো দুটি এখনো বাকি। সেইসঙ্গে আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায়, মামলাটি থেকে তাদের পার পাওয়ার চেষ্টার একটি আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।

তবে ঘটনাস্থল অর্থাৎ রেইন্ট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষকে পুলিশের অভিযোগপত্রে সহযোগী হিসেবে না রাখায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, অপরাধ প্রমাণে আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিই যথেষ্ট বলে মনে করছে মামলার তদন্ত সংস্থা উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

এ ঘটনায় পুলিশের অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে ১৯ জুন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

দেশটিভি/এএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ