কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নব্য জেএমবির আমীরের স্ত্রীসহ তিন নারী জঙ্গিকে আটক করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ।
এসময়, দুটি সুইসাইড ভেস্ট, একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গান পাউডার উদ্ধার করা হয়েছে—অভিযান এখনো চলছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটের সদস্যরা রওনা হয়েছেন।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের একটি ইউনিটের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা তালতলা মসজিদের পাশে একটি বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেয় কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানা পুলিশ, কুষ্টিয়া পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম। পরে, রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট যৌথভাবে বাড়িতে অভিযান চালালে তিথি নামে এক নারী সুইসাইড ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। সুইসাইড ভেস্টটি বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই পুলিশ ওই নারীকে আটক করে।
পরে, পর্যায়ক্রমে আরও দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত তিথি নব্য জেএমবির আমীর আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সজিবের স্ত্রী। এছাড়া, দুই জনের একজন নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড আরমান আলীর স্ত্রী সুমাইয়া ও ভেড়ামারা উপজেলার নগর দৌলতপুর গ্রামের রাজিকুল ওরফে রাশেদ ওরফে তালহার স্ত্রী টলী বেগম। এছাড়া, আটককৃত সুমাইয়ার সঙ্গে তার শিশুসন্তান রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, অভিযানকালে বাড়ির ভেতর থেকে দুইটি সুইসাইড ভেস্ট, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও কিছু গানপাউডার উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়িতে আরও বিস্ফোরক থাকবে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে পৌঁছালে পরবর্তী অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
বাড়ির ভেতর আরও কেউ আছে কিনা সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তবে, নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বাড়ি থেকে সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে নাসিমা খাতুনের মালিকানাধীন বাড়িটি জঙ্গিরা ভাড়া নেয়। বাড়িটিতে দুইটি কক্ষ রয়েছে। ভাড়া নেয়ার পর সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এসে থাকতেন তারা। এরআগে, একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে তারা দুই থেকে তিন বছর ভাড়া নিয়ে থেকেছেন।