রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলায় জঙ্গিদের পুরো ছকটাই পুলিশের কাছে এখন পরিস্কার।
ওই ঘটনার তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, জঙ্গি-হোতারা হামলার ছক কাটেন ২০১৬-এর এপ্রিলে। এরপর গাইবান্ধার চরে ২৮দিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় হামলাকারীদের।
গতবছর ১ জুলাইতে হামলার চার দিন আগে টার্গেট-স্থল নির্ধারণ করা হয়। পুলিশের জিম্মায় থাকা চার জনের তিন জন এ ব্যাপারে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।
এক জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে যে হামলা হয়েছিল –এ ধরনের কিছু যে ঘটতে পারে বাংলাদেশের মানুষ কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি। নির্মম এক হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হয় গোটা বিশ্ব।
এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ২২ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে হামলাকারী পাঁচ জন সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছে।
হামলার মাস্টার মাইন্ডদের মধ্যে ছিলেন তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, নুরুল ইসলাম মারজান, মেজর জাহিদ, তানভীর কাদেরী, আবু রায়হান ওরফে তারেক, আব্দুল্লাহ, ফরিদুল ইসলাম আকাশ। জঙ্গি আস্তানাগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় তারা নিহত হয়েছেন। আটক রয়েছেন বড় মিজান, রাকিবুল ইসলাম রিগান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধী।
জড়িত সন্দেহে আরো আটক রয়েছে হলি আর্টিজানে সপরিবারে জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া হাসনাত করিম। আর পলাতক রয়েছেন ছোট মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, সোহেল মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র্যা শ ও বাশারুজ্জামান চকলেট।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলার পরিকল্পনা করা হয় গত বছর এপ্রিল মাসে। হামলার আগে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদ।
তানভীর কাদেরীর বাসায় থাকতেন জঙ্গিরা। বসুন্ধরা বা বারিধারায় হামলার পরিকল্পনা থাকলেও পরে হলি আর্টিজানকে বেছে নেয় জঙ্গিরা। হামলার আগে জঙ্গিদের নির্দেশনা দেন সারোয়ার জাহান। জঙ্গিরা সঙ্গে কোনো ডিভাইস নিয়ে যায়নি। জিম্মিদের মোবাইল ব্যবহার করে তামিম ও মারজানের কাছে ছবি পাঠিয়েছে।
তদন্ত করে দেখা গেছে, এ হামলায় মোট খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা। এই অর্থ বিদেশ থেকে আসেনি। স্বচ্ছল পরিবারের হওয়ায় হামলার অর্থ জোগান দিয়েছে নব্য জেএমবির সদস্যরাই।
তদন্তে আরো কিছু বিষয় সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তবে তা যাচাই বাছাই চলছে বলে জানান তিনি।