কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার আসলেই অপহরণের স্বীকার হয়েছেন কি-না তা বের করতে কাজ করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফরহাদ মজহার এখনো আতঙ্কিত। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তারা জানান, তার সেরে উঠতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।
এদিকে, হানিফ পরিবহণের কাউন্টার ম্যানেজার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, ঢাকাগামী বাসের টিকিট সংগ্রহের সময় ফরহাদ মজহার নিজের প্রকৃত নাম গোপন করেন।
গত সোমবার ভোরে শ্যামলীর রিংরোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয় বলে দাবি করে তার পরিবার। কিন্তু নিখোঁজের সাড়ে ১৮ ঘন্টা পর নাটকীয়ভাবে রাতেই যশোরের নোয়াপাড়ায় ঢাকাগামী একটি বাসে তার হদিস পায় র্যা ব। এই দীর্ঘ সময় তিনি কোথায় ছিলেন, অপহৃত হয়েছিলেন কিনা- তা খতিয়ে দেখছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযোগের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করেন তারা। তবে অবস্থান পরিবর্তীত হওয়ায় তাকে উদ্ধার করতে সময় লাগে তাদের। পরে এক হোটেল মালিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যা ব-পুলিশ তার সন্ধান পায়।
পরদিন আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার বলেন, ওইদিন ভোরে ওষুধ কিনতে তিনি বাসার কাছে হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিন যুবক একটি সাদা মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নেয়। জবানবন্দি শেষে রাতেই তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন, ফরহাদ মজহারের এনজিও উবিনীগের তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার।
এদিকে, যশোরের যে পরিবহনের বাস থেকে ফরহাদ মজাহারকে উদ্ধার করা হয়েছিল, এরইমধ্যে সেই হানিফ পরিবহণের শিববাড়ি কাউন্টার ম্যানেজার নাজমুস সাদাত ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ফরহাদ মজহার নিজের পরিচয় গোপন করে গফুর নামে বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন বলে আদালতে জানান তিনি।