বগুড়ার সদ্য এসএসসি পাস করা এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামী শনিবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। রোববার দুপুরে অভিযুক্ত তুফানসহ বাকি তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পলাতক রয়েছে অভিযুক্তদের স্বজনরা।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
বগুড়া শহরের একটি বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পাস করে সোনালী। তার বাবা গ্রামীণ বাজারে সামান্য পুঁজির ব্যবসা করেন। আর মা ঢাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। এতদিন বগুড়া শহরের নানিবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছে। তবে, কিছুদিন আগে মা বগুড়ায় ফিরে এলে সে তার মা-বাবা সঙ্গে থাকতে শুরু করে।
নির্যাতনের শিকার মেয়েটি জানায়, শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার তাকে সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তির সব ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে চার হাজার টাকা ও সব সার্টিফিকেট নেন।
১৭ জুলাই তুফান সরকার তাকে ফোন দিয়ে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে, তার বাসায় গিয়ে কাগজপত্র নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু, সে বাসায় যেতে রাজি হয়নি। পরে, তুফান তার সহযোগীদের পাঠিয়ে তাকে নিজের বাসায় তুলে নিয়ে যান। এরপরই তাকে নানান ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। আর ধর্ষণের বিষয়টি ফাঁস না করার জন্য ভয় দেখানোসহ স্থানীয় এক মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগিতায় উল্টো মেয়েটিকে ও তার মাকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে বিচারের নামে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
এরপরই মা ও মেয়েকে শুক্রবার রাতেই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতেই থানায় মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর মা। এরপর পরই ধর্ষক হিসেবে অভিযুক্ত তুফান সরকার ও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে আতিকুর রহমান শনিবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
রোববার পুলিশ অভিযুক্ত তুফানসহ বাকি ৩ জনের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে, আদালত ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
ঘটনাতদন্তে এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি ও তাকে আইনগত সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।