বগুড়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং মেয়ে ও মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার মামলার পলাতক শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকারসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ নিয়ে এ মামলার ১০ আসামির মধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে সাভার থেকে ঢাকা জেলা পুলিশ তাদের ধৃত করে।
তারা হলো:, তুফানের সহযোগী মুন্না ও ড্রাইভার জিতু।
বগুড়া পুলিশের মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি এবং তার মা রুমি বেগমকে পাবনা থেকে ধরা হয়।
গত ১৭ জুলাই ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার তৎকালীন আহ্বায়ক তুফান সরকার। এর ১০ দিন পর তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির নেতৃত্বে 'একদল সন্ত্রাসী' মেয়েটি ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের চকসূত্রাপুর এলাকায় কাউন্সিলর রুমকির বাড়িতে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে বেধড়ক মারপিট করা হয়। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এবার বগুড়া শহরের একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত ২৮ জুলাই রাতে বগুড়া সদর থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন।
এরপর রাতেই তুফান এবং আতিকুর রহমান আতিক, আলী আজম দিপু ও রূপম নামের তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি তুফান এবং তার দুই সহযোগী দিপু ও রূপমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জর করে আদালত। তুফানের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত আতিকুর রহমান আতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার রাতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় পলাতক আসামিদের মধ্যে তুফানের স্ত্রীর বড় বোন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুমকি ও তার শাশুড়ি রুমি বেগমকে পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে রোবরারই বগুড়ায় শ্রমিক লীগের জরুরি সভায় তুফান সরকারকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়। জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় কমিটি তুফানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী ও তার মা এখন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন। শজিমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, ওই কিশোরীর শারীরিক ক্ষতগুলো অনেকটাই সেরে উঠেছে। তবে মানসিকভাবে সেরে উঠতে তার আরও অনেক সময় লাগবে।