রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলায় পুলিশের ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ নামের জঙ্গি অভিযানের সময় মারা যান সাইফুল ইসলাম। তার বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায় সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামে।
গত শুক্রবার বিকেলে চাকরি খোঁজার কথা বলে নোয়াকাটি গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে ঢাকায় রওনা হন সাইফুল।
গত রোববার বিকেলে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন তিনি, এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেননি।
সাংবাদিকের এসব কথা জানান, সাইফুলের ছোট বোন ইরানি খাতুন।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পর সাইফুলের বাবা আবুল খায়েরকে ডুমুরিয়া থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাইফুলের বাবা ইউনিয়ন পর্যায়ে জামাতের রুকন এ ছাড়া ইউনিয়ন জামাতের কোষাধ্যক্ষও তিনি।
সাইফুলের গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার বাবার নাম আবুল খায়ের মোল্লা। তিনি নোয়াকাটি গ্রামে মাঠের হাট মসজিদের ইমাম। সাইফুলের মা বাক্প্রতিবন্ধী। আবুল খায়েরের এক ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সাইফুল সবার বড়। পাইকগাছার একটি মাদ্রাসা থেকে হাফিজি পাস করেন। খুলনার বিএল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তিনি। পড়াশোনার জন্য খুলনার একটি মেসে থাকতেন। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার সাইফুলের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে তার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৯৬ সালের ১৩ অক্টোবর। সে হিসাবে তার বয়স প্রায় ২১ বছর।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, যখন পুলিশ অপারেশন শুরু করবে, তখন সে একটি এক্সপ্লোসিভ ব্লাস্ট করে পুরো দরজা ভেঙে ফেলে। আরেকটি বোমা ব্লাস্ট করতে যাবে, তখন পুলিশ গুলি করে, তার সঙ্গে সঙ্গে সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সে আত্মঘাতী হয়।
নোয়াকাটি গ্রামবাসীরা জানান, বাড়ি এলে মানুষের সঙ্গে খুব কম মিশতেন সাইফুল কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। ঘরে একাই থাকতেন। আচরণে বেশ ভদ্র ও নম্র ছিল। কিন্তু তিনি ছাত্রশিবির করতেন কি না—এ ব্যাপারে কোনো তথ্য এলাকাবাসীর কাছ নেই।
সাইফুলের বোন ইরানি খাতুন বলেন, চাকরি না করার কারণে শুক্রবার তার আব্বা সাইফুলকে গালিগালাজ করেন। এরপর শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বিকেলে বাড়ি ছাড়েন। রোববার ফোন করে সাইফুল জানান সে সোমবার বিকেলে গ্রামের ফিরে আসবেন। কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি।
প্রসঙ্গত: রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মিছিলে হামলার পরিকল্পনা সাইফুল ইসলামের ছিল— জানিয়ে আইজিপি বলেন, এ ৩২ নম্বরকে কেন্দ্র করে যে মিছিলগুলো আসবে, সেই মিছিলে আত্মঘাতী বোমা হামলা করবে এবং শত শত লোককে মেরে ফেলবে—এ ধরনের প্রস্তুতি ছিল তার। আমরা গোয়েন্দারা গতকাল থেকে ফলো করে জঙ্গি আস্তানা পেয়েছি। ওলিও হোটেলে তল্লাশি করে একটি রুমে রেসপন্স পেলাম, তাতে বুঝলাম সে জঙ্গি। আমরা তাকে আটকে রাখলাম এবং তাকে সারেন্ডার করতে বললাম কিন্তু সে সারেন্ডার করেনি।