ময়মনসিংহের ভালুকায় জঙ্গি আলম প্রামাণিক নিহতের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ভালুকা মডেল থানায় এসআই জীবন চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় আসমি করা হয় বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিন, নিহতের স্ত্রী ফাতেমা আক্তারসহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনকে।
মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ।
গতকাল ভালুকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর সেখান থেকে তিনটি বোমা, একটি গ্রেনেড ও বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
এরআগে, অভিযানের শুরুতেই নিহত ওই জঙ্গির মৃতদেহ উদ্ধার করেন তারা।
পরে নিহতের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে মৃত জঙ্গির নাম ও দেশের বাড়ি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। তার নাম আলম প্রামাণিক। বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামে। তিনি জেএমবির আত্মঘাতী ইউনিটের সদস্য ছিলেন।
সকালে বোমা বিস্ফোরণে ঘটনায় নিহত ব্যক্তি তিনি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারনা করেন পুলিশ সদস্যরা। ভালুকা উপজেলার হবিবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় গতকাল সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ।
গত ২৪ তারিখ সুতার ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্ত্রী ও তার দুই সন্তানকে নিয়ে আধা-পাকা একটি বাড়ি ভাড়া নেয় অজ্ঞাত ওই জঙ্গি। গত তিনদিন প্রকাশ্যে না আসলেও রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিকট শব্দ হয় ওই বাড়িতে। বিস্ফোরণের পর একজনের রক্তাক্ত নিথর দেহ বাড়ির ভেতর পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই বাড়ির অন্য সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে, ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা পালিয়ে যাবার চেষ্টার সময় ময়মনসিংহ হবিরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রোববার রাতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।
তবে তিন দিন হলো বাড়ি ভাড়া নিলেও ওই পরিবারকে কেউ দেখেনি বলে জানান স্থানীয়রা।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি জানান, ধারনা করা হচ্ছে নিহত ব্যাক্তি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে জড়িত ছিল।
নিহত ব্যাক্তির স্ত্রী ও সন্তানদেও কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।