রাজধানীর মিরপুর মাজাররোডে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা ভবনে থাকা জঙ্গি আবদুল্লাহসহ সাতজন আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে।
ভবনের ভিতর থেকে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। জঙ্গি আবদুল্লাহ সময় চাওয়ায় এবং ভিতরে নারী ও শিশু থাকায় তাকে আত্মসমপর্ণের জন্য যথেষ্ট সময় দেয়ার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যা ব।
সকালেই ওই বাড়ি থেকে অন্য ফ্লাটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় র্যা ব সদস্যরা।
এর আগে বাড়ির ভেতর থেকে র্যা বকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও পেট্রলবোমা ছোড়া হয় তবে কেউ হতাহত হননি।
র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ছয় তলা ওই ভবনের পঞ্চম তলার আবদুল্লাহ নামের এক জঙ্গি অবস্থান করছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার রাতে এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে আটক করার পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্য রাতে ঢাকায় এ অভিযান শুরু হয়।
মাজার রোডের পাশে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দক্ষিণে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয়তলা ওই বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেও পরিবার নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন।
মুফতি মাহমুদ খান জানান, র্যা ব ওই বাড়ি ঘিরে ফেলার পর রাত ১টার দিকে সেখান থেকে চারটি বোমা ছোঁড়া হয়—তবে কেউ হতাহত হননি।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে রাখা হয়েছে, ভোরের দিকে ওই গাড়ি থাকে ‘জঙ্গি আস্তার চারপাশে’ পানি ছিটানো হয়।
ঝুঁকি এড়াতে ওই ভবনের বিভিন্ন ইউনিট এবং পাশের বাড়িগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভেতরে থাকা জঙ্গির নাম আবদুল্লাহ—যাদের সরিয়ে আনা হয়েছে তাদের মধ্যে আবদুল্লাহর এক বোনও আছে। আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় সেই বলেছে, যেন অন্যদের সঙ্গে তার বোনকেও সরিয়ে নেয়া হয়। আমরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছে। সে জানিয়েছে, সে ভাবছে, সে সময় চেয়েছে।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ওই ভবনের ভেতরে আবদুল্লাহর সঙ্গে তার দুই স্ত্রী ও সন্তান মিলিয়ে অন্তত পাঁচ জন রয়েছে।
র্যা ব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।