নাটোরের উত্তরা গণভবনের ভেতরে ঝড়ে ভেঙেপড়া আর মরা গাছ কাটার টেন্ডারের নামে লাখ লাখ টাকার অন্য গাছও কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
আর এসব করা হয়েছে ঠিকাদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই। বিষয়টি জানাজানির পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন নাটোরবাসী।
সিসিটিভির ফুটেজ দেখে, অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে প্রশাসন। গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে বলে জানা গেছে।
নাটোরের উত্তরা গণভবন বা দিঘাপাতিয়া রাজবাড়ির ভেতর চারপাশে লেকের ধারে শত বছরের পুরোনোসহ অনেক জাতের গাছ রয়েছে। ঝড়ে ভেঙেপড়া আর মরা গাছ কাটার জন্য মাত্র ১৮ হাজার চারশো টাকার টেন্ডার দেয়া হয়। কিন্তু টেন্ডারের গাছ কাটার নামে, ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মূল্যের আরো ১৫টি ভালো গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই স্থানীয় যুবলীগ কর্মী ও ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিদর্শনের পরেই বনের ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো চিহ্নিত করে টেন্ডার ডাকা হয়েছে বলে জানান বন বিভাগের কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ।
আর কাটার তালিকায় ভালো কোনো গাছ ছিলো না বলে জানান তিনি।
গণভবনের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন তাকে না জানিয়েই গাছ কাটা হয়েছে।
পরে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি। এরসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ আর সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, এসও কামরুজ্জামান, কেয়ারটেকার আবুল কাসেম ও আব্দুস সবুরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।