রাজধানী থেকে এবার নিখোঁজ হয়েছেন সাবেক এক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান নামের এক ব্যক্তি।
গত সোমবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছোট মেয়েকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
গতকাল দুপুরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। রাত পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। তবে সন্ধ্যার দিকে খিলক্ষেত এলাকা থেকে পুলিশ তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করেছে।
ষাটোর্ধ্ব মারুফ জামান ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। মারুফ জামান সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (ষষ্ঠ শর্ট কোর্স) একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
পরিবার পরিজন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বেলজিয়াম থেকে আসা ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে আনতে গাড়ি চালিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে ধানমণ্ডির বাসা থেকে বের হন মারুফ জামান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসার ল্যান্ডফোনে গৃহকর্মীকে বলেন, বাসায় তিনজন লোক যাচ্ছেন। তাদের যেন তার কম্পিউটারটি দিয়ে দেয়া হয়। ওই তিনজন বাসায় গিয়ে কম্পিউটারের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন ও একটি ক্যামেরাও নিয়ে যান।
মারুফ জামানের ছোট ভাই রিফাত জামান একই ফ্লাটা থাকেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি জানতে পারেন তার ভাই বিমানবন্দরে যাননি। এরপর থেকে তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি দ্রুত বিমানবন্দরে গিয়ে ভাইকে পাননি। ওই রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বজনদের বাসায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
রিফাত জামান জানান, এর আগেও বাসার বাইরে থাকা অবস্থায় তার ভাই লোক পাঠিয়ে বাসা থেকে নানা জিনিসপত্র নেন।
প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি বাসাতেই থাকতেন।
মারুফ জামানের বড় বোন শাহরিনা কামাল জানান, ভাইকে কোথায়ও খুঁজে না পেয়ে তারা ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ তার ভাইয়ের গাড়িটি কুড়িল এলাকায় সড়কের পাশ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তবে তার ভাইয়ের সন্ধান মেলেনি।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল আনোয়ার জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মারুফ জামানের সন্ধান মেলেনি। তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মারুফ জামানের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ছিল রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা।
আগস্ট থেকে ঢাকায় রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১২ জন নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে গুলশানের একজন ব্যবসায়ীসহ ৪ জনের সন্ধান মিলেছে।