রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৭ মার্চ মিছিল থেকে কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় রমনা থানায় ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করেছেন।
গতকাল রাতে মামলাটি করেন তিনি এতে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এরইমধ্যে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যৌন হয়রানির ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে, সেটি দেখে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে যোগ দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকজন কিশোরী ও তরুণী অভিযোগ করেন, মিছিল থেকে তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এক কলেজছাত্রীর অভিযোগ, বাংলামটর মোড়ে মিছিলের মধ্যে পড়ে গেলে তিনি শ্নীলতাহানির শিকার হন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারা এসব অভিযোগ করেন; যা বুধবার রাতে 'ভাইরাল' হয়ে যায়। গত দু'দিন ধরে এ বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে কেউ কেউ হয়রানির অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলামোটরে শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এক শিক্ষার্থীকে হয়রানি করেছিল। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক, ছাড় দেয়া হবে না।'
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, ওই কলেজছাত্রীর বাবা গতকাল রাতে একটি মামলা করেছেন। তিনি বুধবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করেছেন। পুলিশ তার অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে।
'ভুক্তভোগী' নারীরা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এ রকম দু'জনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তারা এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। শ্নীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগকারী এক কলেজছাত্রী বুধবার রাতেই তার স্ট্যাটাস 'অনলি মি' করে দেন। তাই এখন আর তা কেউ দেখতে পাচ্ছে না।
ওই কলেজছাত্রীর অভিযোগ, ক্লাস শেষে বাস না পেয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। বাংলামটরে জনসভার মিছিলের মধ্যে পড়েন তিনি। মিছিলে থাকা একদল যুবক তাকে ঘিরে ফেলে যৌন নিপীড়ন করে। এক পুলিশ সদস্য তাকে উদ্ধার করে বাসে তুলে দিলে তিনি 'নিরাপদে' বাসায় ফেরেন।
আরও অন্তত চার তরুণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তারাও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর দাবি, শাহবাগের কাছাকাছি তার শরীরে পানি ছুড়ে মারে মিছিলকারীরা। তার চুল টেনে ধরে পেছন থেকে।
রমনা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ফেইসবুক স্ট্যাটাসে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, মামলায় প্রায় সেভাবেই লেখা হয়েছে। তবে কোন পুলিশ সদস্য ওই তরুণীকে উদ্ধার করে বাসে উঠিয়ে দিয়েছেন- তা এখনো জানা যায়নি। সেটাও খুব শিগগিরই বের করা হবে।
পুলিশ ইতোমধ্যে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্য রেকর্ড করেছে বলে জানান ওসি।