ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি ভবনে বিস্ফোরণে ঘটনায় একজন নিহত ও আহত হয়েছে তিন জন।
গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিরবাড়ি ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে এ বিস্ফোরণ ঘটার পর থেকে ভবনটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণে ভবনের তৃতীয় তলার দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাচের জানালা ভেঙে অনেক দূর পর্যন্ত ছিটকে পড়েছে। তিন তলার একটি কক্ষে একজনের মরদেহ পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।
বিস্ফোরণে ঝলসে যাওয়া তিন জন হলেন হাফিজ (২৫), দীপ্ত (২৫) ও শাহীন (২৪)।
গুরুতর আহত শাহীনকে ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তার শরীরের ৮৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া আহত হাফিজ ও দীপ্তকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদেরও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানা গেছে, হাফিজ ও দীপ্তর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ ঝলসে গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এলাকাবাসীকে উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে হতাহত ব্যক্তিরা খুলনার একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা ইন্টার্নশিপ করতে দিন দশেক আগে এলাকায় আসেন। মাস্টারবাড়ি এলাকায় ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলায় তারা বাসা ভাড়া নেন।
হতাহতরা সবাই খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুয়েট) চার শিক্ষার্থী সিরাজগঞ্জের শাহাজাতপুর উপজেলার মনিরুল ইসলামের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (২৫) একই উপজেলার নুরুল ইসলাম আকন্দের ছেলে শাহীন আকন্দ (২৪), নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দাইলপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৫) ও মাগুরার শালিখা উপজেলার দীঘল গ্রামের বিমল সরকারের ছেলে দীপ্ত সরকার (২৫) ভালুকা উপজেলার মাষ্টারবাড়িস্থ স্কয়ার ইন্ডাস্ট্রিজে ইন্টার্ন করতে ১০ দিন আগে ওই ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলা ভাড়া নেয়। শনিবার রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ ভবনের তৃতীয়তলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে তৃতীয়তলার দেয়াল ও কাঁচের দরজা-জানালাগুলো ভেঙে প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত দূরত্বে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তৌহিদুল ইসলাম নিহত ও অন্যান্যদের শরীর ঝলসে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্থ ভবন
আহতদের মাঝে হাফিজ ও দীপ্ত সরকারকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নাজমুল ওরফে শাহীনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বোমা সন্দেহে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে রাতেই ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
রোববার সকালে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরে ঢাকা থেকে মেজর মাহমুদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রাকিবুল হাসান জানান, অবৈধ গ্যাসসংযোগে ত্রুটিজনিত কারণে বা ওই রুমে গ্যাস সিলিন্ডর বিস্ফোরণের কারণে ওই ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাইরুজ্জামানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নিদের্শ দেয়া হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, এ ব্যাপারে বাড়ির মালিককে আসামি করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক আব্দুর রাজ্জাক ঢালী পলাতক রয়েছেন।