কোটাবিরোধী আন্দোলন চলার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের- ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার এক ছাত্রসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হলো- মো. মাসুদ আলম ওরফে মাসুদ (২৫), মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৬), মো. আলী হোসেন শেখ ওরফে আলী (২৮) ও আবু সাইদ ফজলে রাব্বী ওরফে সিয়াম (২০)।
পুলিশ জানায়, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতে হাজির করে তাদরে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে।
আদালত রাকিবুল হাসান ওরফে রাকিবের চার দিন, মাসুদ আলম ওরফে মাসুদের তিন দিন, আলী হোসেন শেখ ওরফে আলী ও আবু সাইদ ফজলে রাব্বী ওরফে সিয়ামের ২ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, রোববার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়-এ কথা জানিয়েছে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তাদের দুজনের কাছ থেকে ওই রাতে উপাচার্যের বাসা থেকে লুট হওয়া দুটি মোবাইল পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা দেবদাস বলেন, মাসুদ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র বাকি তিন জন এখন লেখাপড়া করে না।
গত ৯ এপ্রিল শাহবাগে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে রাতে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর ক্যাম্পাসের ভিতরে গিয়ে রাতভর পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে আন্দোলনকারীদের।
এরমধ্যে মধ্যরাতে মুখোশধারী একদল ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর লুটপাট করে।
পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম কামরুল আহ্সান শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও কয়েকটি মামলা করা হয়।
কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এসব মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করায় আতঙ্কে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসব মামলার তুলে নেয়ার দাবি জানান তারা।