দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কয়লা কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পার্বতীপুর থানায় দায়ের করা মামলার নথি হাতে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
দুদকের দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেনজীর আহম্মেদ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথিটি পরে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি— সেখান থেকেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগের পরেই শুরু হবে এর পরবর্তী কার্যক্রম।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে এক লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনায় অপসারণ হওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করে খনি কর্তৃপক্ষ।
খনির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলায় হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ ছাড়াও সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কেএম খালেদুল ইসলামকেও আসামি করা হয়।
পার্বতীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তিনি আরো বলেন, মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলাটি দুদকের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলামসহ খনির ব্যবস্থাপনায় জড়িত অপর আসামিরা ওই কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত।
কয়লার হিসাবে গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভুক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে ওই আর্জিতে।
এ মামলায় অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই ব্যবস্থাপক, উপ-ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নূর-উজ-জামান ও খালেদুলকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পেট্রোবাংলা। হাবিব উদ্দিনকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দপ্তরে সরিয়ে আনা হয়েছে। কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় দুদক। এই দুর্নীতি উদঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটি খুব শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে। দুপুরে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার পর দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
কয়লা দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে নামার পর দুদক ওই চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা ঠেকাতে ইতোমধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
গত সোমবার দুদকের অনুসন্ধান কমিটি দিনাজপুরে গিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়লা খনি পরিদর্শন করেছেন এবং গতকাল ঢাকায় পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
বড় পুকরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির কয়লা দিয়ে চলে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা খনির ইয়ার্ডেই থাকত। কিন্তু হঠাৎ করে কয়লা সঙ্কট দেখা দেয়ায় গত রোববার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন।
দুদক কর্মকর্তারা সোমবার পরিদর্শনে গিয়ে খনির ইয়ার্ডে দুই হাজার টন কয়লা পান।
আর কাগজে-কলমে সেখানে এক লাখ ৪৬ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা বলা হয়েছে।
কয়লা কীভাবে উধাও হলো তার ‘পূর্ণ তদন্ত’ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।