রাজধানীর লালমাটিয়া থেকে দিনেদুপুরে অপহৃত কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা পারভেজ হোসেন সরকারকে মধ্যরাতে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় পাওয়া গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতে কাঞ্চন ব্রিজের কাছে ৩০০ ফুট সড়কে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে বাসায় নিয়ে যান তারা।
তবে কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে কারা কেন বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল- সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
পারভেজের ভাগ্নে আবরার সামশাদ জাকি শুক্রবার মধ্যরাতে বলেন, আমরা উনাকে বাসায় নিয়ে এসেছি। কিছুটা অসুস্থ বোধ করছেন, ঘুমিয়ে পড়েছেন। বাসায় আসার পর তেমন কথা বলেননি।
আর ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, যেহেতু সারা দিন ধকল গেছে, আমরা আজ আর কথা বলছি না। পরে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।
কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পারভেজ হোসেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে লালমাটিয়া সি ব্লকের ৩০ নম্বর বাড়িতে তিনি থাকেন।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বাসার ফেরার সময় পারভেজকে জোর করে একটি কালো রঙের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।
পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নামে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন লোক টেনেহিঁচড়ে পারভেজকে তার বাসার সামনে থেকে নিয়ে যাচ্ছে। একটি কালো রঙের গাড়িতে তুলে পারভেজকে নিয়ে চলে যান তারা।
উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সে সময় বলেন, যারা পারভেজকে তুলে নিয়ে গেছে, তাদের হাতে ওয়্যারলেস ও অস্ত্র দেখার কথা প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছে।
এরপর রাত ১০টার দিকে পারভেজের ফোন পান তার স্ত্রী তাহমিনা আফরোজ। পারভেজ তাকে জানান, তিনি আছেন ৩০০ ফুট এলাকায়, পরিবারের সদস্যরা যেন তাকে নিয়ে যায়।
পারভেজের পরিবারের সদস্যরা এরপর পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাঞ্চন ব্রিজের কাছ থেকে পারভেজকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা লালমাটিয়ায় ফেরেন বলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান।
পারভেজের ভাগ্নে আবরার সামশাদ জাকি বলেন, মামা তেমন কিছু বলতে পারেননি। তাৎক্ষণিকভাবে শুধু বলেছেন, গাড়িতে তোলার পর তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে ওখানে ফেলে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এক লোকের মোবাইলে বাসায় ফোন করে খবর দেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কাজ করছিলেন পারভেজ।
তার মামা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিতাসের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদারের সঙ্গে বিরোধের কারণে বছরখানেক ধরে পারভেজ এলাকায় যাওয়া কমিয়ে দিয়েছিল।
পারভেজের স্ত্রী তাহমিনা আফরোজ অভিযোগ করেন, গতবছর রোজার ঠিক আগে তিতাসে এক জনসভায় ‘সোহেলের লোকজন’ তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়, গুলিও করে। এরপর থেকে পারভেজ এলাকায় যাওয়া কমিয়ে দেন।
তাহমিনা বলেন, তার স্বামী কখনোই রাজনৈতিক বিষয়ে বা কোনো ধরনের সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করতেন না। তবে ৫/৬দিন আগে আমাকে একা কোথাও বের হতে মানা করেছিল। ছেলেদের নিয়ে বের হলে ওকে জানিয়ে এবং গাড়ি নিয়ে যেতে বলেছিল।
তাহমিনার অভিযোগ, সোহেল শিকদার মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তার অপকর্মে বাধা দেওয়ার কারণেই চক্ষুশূল হন পারভেজ। এ কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। কিছুদিন আগে সোহেল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, পারভেজকে হত্যা করবেন।
তাহমিনার অভিযোগ প্রসঙ্গে সোহেল শিকদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, পারভেজ হোসেন বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির জমি দখল করে দেওয়ার কাজ করেন। এ কারণে তার অনেক শত্রু রয়েছে। তারাই কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। যেহেতু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে, তাই সহজেই শনাক্ত করা যাবে কারা অপহরণ করেছে। পারভেজ সন্ত্রাসী ইমন বাহিনীর সদস্য বলেও দাবি করেন সোহেল।