দিনাজপুরের বড়পুকুড়িয়া খনি থেকে কয়লা চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের কেউ কেউ এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনিকভাবে চার জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর একজন এখনও বহাল তবিয়তেই আছেন।
মামলার ধীরগতিতে, প্রভাবশালী এসব কর্মকর্তারা পার পেয়ে যেতে পারেন বলে শঙ্কা তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা চুরির ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এছাড়াও পেট্রোবাংলার তদন্তে চার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।
মামলায় প্রভাবশালী যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল কাশেম প্রধানীয়া, হাবিব উদ্দিন আহমেদ, মাসুদুর রহমান হাওলাদার। প্রোডাকশন ম্যানেজম্যান্টের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হাওলাদার, জেনারেল সার্ভিসেস ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার এবং অর্থ ও হিসাব শাখার মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র শাহা। এর আগে কয়লা চুরির ঘটনায় গোপাল চন্দ্র সাহা সাময়িক বরখাস্ত হলেও আবারও সপদে বহাল হয়েছেন।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে প্রশাসনিকভাবে ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ৩ জনকে সাময়িক বহিস্কার করা হলেও এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন খনির মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানির সচিব আবুল কাশেম প্রধানীয়া।
বদলি হয়েছেন পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানিতে।
স্থানীয় ও কয়লা ব্যবসায়ীরা বলেন, খনির প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন আবুল কাশেম প্রধানীয়া। আর তার সাথে রয়েছেন হাবিব উদ্দিন আহমেদ ও মাসুদুর রহমান হাওলাদার।
মামলার ধীরগতিতে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারেন এমন শঙ্কা তেল, গ্যাস-খনিজ সম্পদ, বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির।
দিনাজপুরে তেল-গ্যাস, খনিচ সম্পদ ও বিদুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এসএম নুরুজ্জামান অভিযোগ, চুরির ঘটনায় জড়িতরা বহাল তবিয়তে আছেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাবসহ তথ্যাদি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য আবুল কাশেম প্রধানীয়াকে ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় নি। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে কয়লা খনির জেনারেল সার্ভিসেস ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার জানান, মামলার সন্দেহভাজন আসামি তিনি।
ঘটনা তদন্তে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসেবের পাশাপাশি ডিও বাণিজ্য খতিয়ে দেখার দাবি কয়লা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও।