ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার দুই আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
রোববার মধ্যরাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গতকাল বিকাল ৩টায় এ এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি নূর ও শামীমকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শুরু করেন বিচারক, তা চলে রাত ১টা পর্যন্ত।
তিনি আরো বলেন, আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের জবানবন্দি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তারা কারাগারে থাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার কাছ থেকে হুকুম পেয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
এ সময় তাদের সাথে কারা ছিলো, কীভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, বিষয়গুলো জবানবন্দিতে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই গণমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে না।
সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করে নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার গত ২৭ মার্চ মামলা করার পরদিন সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয় বোরখা পরা চারজন। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নুসরাত ১০-বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দুই বছর আগে দাখিল পরীক্ষার সময়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন নুসরাত। তখন তার চোখে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছিল। ওই ঘটনাতেও অধ্যক্ষ সিরাজের ‘ঘনিষ্ঠ’ নূর উদ্দিনকে সন্দেহ করা হয়।
ফেনীর সোনাগাজীর উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের নূর উদ্দিনকে শুক্রবার ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আর শাহাদাত হোসেন শামীমকে শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মোট ১৩ জন জড়িত ছিল, যাদের মধ্যে দুজন ছাত্রী। তাদের একজন অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি।