অপরাধ

সুনামগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শাহনাজ মার্ডার

ধর্ষণের পর যেভাবে ৬ টুকরা করা হয় প্রবাসীর স্ত্রীকে

সুনামগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শাহনাজ মার্ডার-প্রতীকী ছবি
সুনামগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শাহনাজ মার্ডার-প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার (৩৫) ধর্ষন ও হত্যার কারণ খুঁজে পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ (শনিবার) সংবাদ সম্মেলনের করে গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোৎস্না কিছুদিন ধরে স্ত্রীরোগে ভুগছিলেন। গোপন সমস্যার কথা স্থানীয় ফার্মেসি অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে জানালে তিনি তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলেন।

জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে বৃহস্পতিবার শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনার পর সিআইডির এলআইসি শাখার একাধিক দল আসামিদের গ্রেফতারের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে আসামী জিতেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর অনজিৎ ও অসীত গোপকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন জিতেশ চন্দ্র গোপ (৩০), অনজিৎ চন্দ্র গোপ (৩৮) ও অসীত চন্দ্র গোপ (৩৬)। তারা জানায় কীভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শাহনাজ পারভীনকে।

সংবাদ সম্মেলনে আসামীদের বরাত দিয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, ওষুধ কেনার সুবাদে অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে শাহনাজ পারভীনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৬ ফেব্রুয়ারি তার মায়ের প্রেশার মাপার জন্য তাদের বাড়িতে যান জিতেশ। তখন নিজের গোপন সমস্যার কথা জিতেশকে জানান তিনি। এতে তিনি শাহনাজকে ফার্মেসিতে যেতে বলেন।

এরপর ফার্মেসিতে গেলে পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হন শাহনাজ পারভীন। ধর্ষণের কথা সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তখন জিতেশসহ তিনজন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মরদেহ ছয় টুকরা করা হয়।

সেদিন বিকেলে শাহনাজ পারভীন ফার্মেসিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখে জিতেশ। রাত হয়ে এলে বাসায় যেতে চান শাহনাজ। কিন্তু জিতেশ তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন তিনি।

এরপর জিতেশ ও তার দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপ শাহনাজ পারভীনকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। রাত গভীর হলে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিতেশ ও তার সহযোগীরা এনার্জি ড্রিংকস পান করে জোৎস্নাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এতে জিতেশ ও তার সহযোগীরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

সিআইডির বিশেষ এ পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার পর ফল কাটার ছুরি দিয়ে শাহনাজের মরদেহ ছয় টুকরা করেন আসামিরা। এরপর দোকানে থাকা ওষুধের কার্টন দিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে তারা ফার্মেসি তালা দিয়ে পালিয়ে যান।

মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন জিতেশ ও তার সহযোগীরা। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় তারা কাজটি সারতে পারেননি।

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ