মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও এক কলেজছাত্রী হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন সুমন শিকদার মুসাকে ওমানে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৩ জুন) গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, ওমান থেকে মুসাকে এখন ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে একটি টিম পাঠানো হবে।
এ মামলার তদন্তে মুসার নাম আসার পর তাকে ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশের পুলিশ। বাংলাদেশের হয়ে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ডেস্কের।
মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু সড়কে গাড়িতে থাকা অবস্থায় গত ২৪ মার্চ রাতে খিলগাঁও রেলগেইটের কাছে গুলিবিদ্ধ হন। সে সময় গাড়ির পাশে রিকশার আরোহী কলেজছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নিলে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ব্যক্তিই টিপুকে গুলি করেছিলেন। পরে আরফান উল্লাহ দামাল নামে আরও একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় কমলাপুর থেকে।
এরপর ২ এপ্রিল মুসার ভাই সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ, মতিঝিল থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় র্যাব।
পুলিশ বলছে, টিপুকে খুন করতে শুটার হিসেবে মাসুম মোহাম্মদ আকাশ ও শামীমকে ভাড়া করেন মুসা। আকাশ ও মাসুম দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। টিপুকে হত্যার ছক চূড়ান্ত করার পর ঢাকায় যে পরিকল্পনা বৈঠক হয়, সেখানে মুসা, শামীম, ফ্রিডম মানিকসহ চার-পাঁচজন ছিল। কার কী দায়িত্ব তা ভাগ করে দেন মুসা। আকাশের কাছে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল সরবরাহ করেন তিনি।