চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে সরকারের সঙ্গে মিলছে না দাতা সংস্থা ও বেসরকারি থিঙ্কট্যাংকের পূর্বাভাস। সরকারের সাড়ে ৬% সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এদের সবারই পুর্বাভাস ছয়ের নিচে। বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় না নিয়ে সরকার রাজনৈতিকভাবে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে বলে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, সরকার ঠিক আছে বরং দাতা সংস্থা ও বেসরকারি থিঙ্কট্যাংকের পূর্বাভাস বরাবরই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে ধারাবিহিকভাবে টানা ৩ বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি পতনের ধারা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সরকার ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাড়ে ৭% জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে সেটা প্রায় অসম্ভব বুঝতে পেরে, লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে সাড়ে ৬% নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দাতা সংস্থা ও বেসরকারি থিংকট্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী সাড়ে ৬% প্রবৃদ্ধিও অসম্ভব।
এরইমধ্যে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ৫.৪%। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫.৬%, সেন্টার পর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ৫.৮% ও আইএমএফ ৬%।
প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার পিছনে এদের সবার যুক্তিই এক তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রেমিট্যান্সের নিম্নপ্রবাহ। জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬% নির্ধারণ করার সময় সরকার বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেয়নি। তবে পরিকল্পনা কমিশন সাড়ে ৬% প্রবৃদ্ধির বিষয়ে এখনো আন্তবিশ্বাসী।
অর্থনীতিবিদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু ক্ষতি হলেও, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও চাঙ্গা। দাতা সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস বাস্তব অবস্থার সঙ্গে কখনো মেলেনি।
তবে পরপর ৩ বছর সূচকের ধারাবিহিক পতনের ধারা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।