যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিরকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে শর্ত পূরণের অগ্রগতি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ১৬টি শর্তের অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে এখন রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা না করে অর্থনৈতিকভাবে বিবেচনা করলে আমরা জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবো।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জুনের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ভবন নিরাপত্তা বিধানে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তাবিত ২০০ জন শ্রমপরিদর্শকের মধ্যে ৬৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আগামীতে যেসব নতুন ভবন নির্মাণ হবে সেগুলো শতভাগ বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি করা হবে। আর বিদ্যমান যেসব কারখানা ভবনে ত্রুটি আছে সেগুলো সংস্কার ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হলে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের সব দেশের জিএসপি সুবিধার মেয়াদই শেষ হয়েছে। তা নবায়ন না হলে কোনো দেশই এ সুবিধা পাবে না। গাজীপুরে তাজরিন ফ্যাশনে আগুন ও সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহাস্রধিক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর গত বছরের ২৬ জুন মার্কিন বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সুবিধা ফিরে ফিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কর্ম-পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬টি শর্ত বেঁধে দেয় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় বা ইউএসটিআর কর্তৃপক্ষ। শর্ত পূরণ করে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে গত ৩১ মার্চ সর্বশেষ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। তবে পূর্ব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।