যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পুনর্বহালের বিষয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো (টিকফা) বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের’ বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি একথা বলেন।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপ তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশকে বিশ্বমানে উন্নীত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১১০০ এর বেশি শ্রমিকের প্রাণহানির পর কর্মস্থলে শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশি পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার মূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে এ সুবিধা পুনর্বহালের জন্য দুপক্ষের মধ্যে দেনদরবারও হয় কয়েক দফা।
এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের সংগঠন (অ্যাকোর্ড) ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সংগঠনের (অ্যালায়েন্স) বেঁধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী তৈরি পোশাক কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে ও ব্যাপক সংস্কার কাজ শুরু করে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) ও সরকার।
তবে এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সন্তুষ্ট তা স্পষ্ট নয়।
মজিনা বলেন, ‘জেএসপি সুবিধা পুনর্বহালে আগামী ২৮ এপ্রিল টিকফার বৈঠকে আলোচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে খুবই আন্তরিক।’
তবে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গেই কাজ করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের ওই দুর্ঘটনা জাতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত—এ কথা উল্লেখ করে মুহিত বলেন, ‘রানা প্লাজা ধস জাতির জন্য একটি দূর্ঘটনা। আর সরকার এ দূর্ঘটনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।’
এ সময় গত ৫ বছরে দেশে রাজস্ব আয় যে হারে বেড়েছে, আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।