সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে বাজেটে মানবসম্পদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর ডিসিসিআই মিলনায়তনে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে ‘আসন্ন বাজেট: প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বাজেটকে বাস্তবসম্মত করতে একে দুই লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ রাখারও পরামর্শ দেন দেবপ্রিয়।
আলোচনায় চলতি অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করে এর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার সম্ভব নয়। এসময় তিনি চলতি অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘৪র্থ বারের মতো প্রবৃদ্ধিহারের পতন ঘটবে এবং ১০ বছরের মধ্যে প্রধমবারের মতো আমরা ৬% এর নিচের প্রবৃদ্ধিতে চলে যাবো। ব্যক্তিখ্যাতে ঋণ প্রবাহের হার কেমন করে ১৮, ১৯% একমাস দুই মাসের মধ্যে নেমে আসলো। তারপর থেকে ক্রমান্বয়ে ১০ ১১ এর ভেতরে আটকে আছে।’
একই অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাস্তবায়ন ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হলে তা কাগুজে-বাজেটে পরিণত হবে। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ছে— উল্লেখ করে তিনি উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।
মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বৈদেশিক সাহায্য এবং অভ্যন্তরীণ সব মিলিয়ে আমার হিসেবে ২ লাখ ৩৪ হাজার বা ২ লাখ ৩৫ কোটি টাকা একটা বাজেট মোটামোটি বাস্তবসম্মত।’
টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজেটে নারী উদ্যোক্তাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জামান। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারেও জোর দিতে বলেন তিনি।
কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, ‘মানুষকে সক্ষম করে তুলতে হবে। তার শিক্ষা, তার স্বাস্থ্য, তার প্রশিক্ষণ এসবগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
এতে অংশ নেন অর্থনীতিবিদসহ দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।