যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি-টিকফার প্রথম সভা সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোববার সচিবালয়ে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ (ইউএসটিআর) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পেলে এ বৈঠক সফল হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সব বিষয়ে নাক গলালেও কোনো সুযোগ সুবিধা দেয় না—অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এ বক্তব্য টিকফা বৈঠকে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশে প্রথম টিকফা বৈঠক নিয়ে আলোচনা সফল হয়েছে উল্লেখ করে ইউএসটিআরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মাইকেল ডিলানি বলেন, বৈঠক সফল হওয়ার ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি-টিকফা স্বাক্ষর হওয়ার আগে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছিল ২০০২ সালে। একটি খসড়াও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি আর হয়ে ওঠেনি। ২০০৭ সালের মার্চে আলোচনা উঠেও থেমে যায়। শেষমেশ ২০০৯ সালের আগস্টের পর থেকে বিষয়টি এগোতে থাকে এবং ২০১৩ সালে টিকফা স্বাক্ষরিত হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্টের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির (টিকফা) প্রথম বৈঠক সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ-ইউএসটিআর এবং বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নিবেন। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া, শুল্কমুক্ত, এবং কোটামুক্ত পণ্য প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, রানা প্লাজা ইস্যু এবং বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলোকেই জোর দেয়া হবে। টিকফার প্রথম সভার একদিন আগে রোববার সকালে ইউএসটিআর এর প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ইউএসটিআর এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী, টিকফা সভার সফলতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাংবাদিকদের কাছে। বাণিজ্যমন্ত্রীও টিকফা সভা নিয়ে আশাবাদ করেন তবে শর্ত বিশেষে।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পর দুপুরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর আয়োজনে এক সভায় মাইকেল ডিলানি বলেন, শাস্তি নয় বরং শ্রমিক অধিকার ও কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যেই জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।