চলতি বাজেটকে বিনিয়োগ বান্ধব হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমান অর্থবছরে দেশে সামগ্রিক বিনিয়োগ বাড়েনি। মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপির অনুপাতে ৩২% লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিনিয়োগ আটকে আছে মাত্র ২৫%। আর এতে করে বেড়েছে বেকারত্বের সংখ্যাও।
বিশেষজ্ঞরা মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ঘটাতে না পারলে, বিনিয়োগকারিরা আস্থা পাবেনা। তাই অবকাঠামো ও গ্যাস বিদ্যুতের উন্নয়নে আসছে বাজেটে সরকারের প্রাধান্য দেয়া উচিত।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশে জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তার চেয়ে ৩গুন হারে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হল, ইকোনোমিষ্ট এর এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে। দেশে এখন ৪৭% স্নাতক পাশ ছেলে-মেয়ে কোনো কাজ পাচ্ছেনা। যা বিশ্বে আফগানিস্তানের পরে সবচেয়ে বেশি।
কেন এ অবস্থা? বিনিয়োগ না বাড়ায় বেড়েছে বেকারের সংখ্যা। গেল ৫ বছরে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে ২৫%। গেল দুই বছরে সরকারি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়লেও কমেছে বেসরকারি বিনিয়োগ। ২০১১-১২তে জিডিপির ২২% জুড়ে থাকা বেসরকারি বিনিয়োগ পরের বছর কমে হয়েছে ২১.৭৫%। আর চলতি বছরে তা আরও কমে এসেছে ২১.৩৯%।
বিনিয়োগ বোর্ডের হিসেবে, ২০১২ সালের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ২০১৩ তে ১৫% কমে হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা।
বিনিয়োগ বোর্ডের হিসেবে ১৩ সালের শেষ প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন মারাত্বক ভাবে কমে যায়। মাত্র ৭৮৭ কোটি টাকা। যা আগের প্রান্তিকে ছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন বিনিয়োগ বান্ধব বাজেটের।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান। অর্থনীতিও হবে টেকসই।