এবারে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি। তবে নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই ২ লাখ ২০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে এক ধাপ বাড়িয়ে ৬টি স্তর করা হয়েছে। করপোরেট করের ক্ষেত্রে তালিকাবহির্ভুত কোম্পানির করের হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সিগারেট কোম্পানি ও মোবাইল কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের বছরের কর হার বহাল রাখা হয়েছে।
ব্যক্তি শ্রেণীর সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা গতবারের মতোই ২ লাখ ২০ হাজার টাকাই বহাল রাখা হয়েছে। উচ্চ আয় অর্জনকারী করদাতার ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার অধিক আয়ের উপর করের হার ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৩০% ধরা হয়েছে।
নারী ও প্রবীণদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য তা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ধরা হয়েছে।
সিগারেট কোম্পানীর করপোরেট করের হার এবার বাড়ানো হয়নি, তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভুত এ ধরনের কোম্পানির করের হার ৪০% রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাবলিক ট্রেডেট কোম্পানির বিদ্যমান হার ২৭.৫% শতাংশই বহাল আছে তবে নন পাবলিক ট্রেডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩৭.৫% থেকে কমিয়ে ৩৫% করা হয়েছে। আর তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও গতবারের করহার অর্থাৎ ৪২.৫% বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল ফোন কোম্পানীর ক্ষেত্রেও কর্পোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়াও, অর্থমন্ত্রী কিছু পদ্ধতিগত সংস্কারের প্রস্তাব করেছেন। যেমন বাড়ি ভাড়া ২৫ হাজারের বেশি হলে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ঢাকা ও চট্রগ্রামে জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দলিল মূল্যের ৩% পরিবর্তে কাঠাপ্রতি অগ্রিম আয়কর দিতে হবে।