বাজেটে পদ্মা সেতুর মতো অনুৎপাদনশীল বড় বড় খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়ের তুলনায় সরকারের ব্যয় বাড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতিবীদরা। তাদের মতে বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের কারণে হুমকিতে পরবে বিনিয়োগ। এর ফলে সম্ভব হবে না নতুন অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন। সেই সঙ্গে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদরা এ রকম বিশ্লেষণ করেন।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজস্ব আয় নিয়ে সরকারকে সতর্ক হওয়ার পরমর্শ দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। তা না হলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
অর্থনীতিবিদ ড.আকবর আলী বলেন, ‘রাজস্বের যে লক্ষ্যেমাত্রা সেটা উদ্ধৃত হবে। সেটা যদি উদ্ধৃত না হয় তাহলে আরো বাজেটে ঘাটতি কমে যাবে যেটা অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে না। আর দ্বিতীয়তো, যে ব্যয় সে ব্যয়গুলো কতটুকু উৎপাদনশীল সেটা দেখতে হবে। বর্তমান বছরে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে অনেকগুলো বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখন সে প্রকল্পগুলো কিন্তু তাৎক্ষনিক সুফল পাওয়া যাবে না। তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া না গেলে সেটাও কিন্তু মুল্যস্ফীতির ওপরে প্রভাব রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারের সচেষ্ট থাকা উচিৎ।’
আবার বাজেটের অর্থায়নকে জটিল বলে মনে করেন অর্থনীতিবীদের অনেকে। তাদের মতে রাজস্ব আয় বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না, ফলে বাড়বে বাজেট ঘাটতি।
অর্থনীতিবিদ ড.মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘টাকার ইত্যাদি এবং অর্থায়ন সেগুলো আমি মনে করি এটার অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন দুটোই কঠিন হবে। প্রথম কথা হলো, অর্থায়নের যে সুত্রগুলো ধরা হয়েছে সেগুলো বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, সেটা সম্ভব হলেও বিশেষ করে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে প্রশাসনিক দক্ষতা, একাগ্রতাএবং যে সততার দরকার সেটা যথেষ্ট হওয়া উচিৎ। কাজেই আমি মনে করি চলতি অর্থবছরে বাজেটে যেমন আমি ঘাটতি দেখেছি আগামী অর্থবছরে এ ঘাটতির মাত্রাটা আরো বেশি প্রকট হবে।’