তিন ক্ষেত্র বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ এবারের বাজেটে ছিল তা আর থাকছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। করমুক্ত আয়সীমা আর বাড়ানো হবে না বলেও জানান তিনি। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মুহিত বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার জন্য কোনো সুযোগ থাকবে না। এটা এ বাজেট থেকে বাতিল হয়েছে। কারণ কালো টাকা কেউ ডিক্লিয়ার করে না। আমরা তিনটা ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে ছিলাম গত বাজেটে। গত বছর কালো টাকা থেকে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি।’
রাজনৈতিক অস্থিরতা বাজেট বাস্তবায়নে কোনো প্রভাব ফেলবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উচ্চবিলাসী হলেও বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব।
আর ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়ানো যায় কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, অনেক উন্নত দেশের চেয়ে এ সীমা অনেক বেশী। মোবাইল সেটের দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে এতে তেমন প্রভাব পড়বে না।
মুহিত বলেন, ‘করমুক্ত সীমানা আমাদের দেশে ঘনঘন বাড়ানো হয় এটা কোনো দেশে হয় না। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ এবং যেখানে মূল্যস্ফীতি কখনো বেশি হয় বা বেশি ভাগ সময় কম থাকে। প্রায় ১০ বছর ধরেই এক্সক্লুশন লিমিট হয়ে বসে আছে ১০০০ ডলারে, এটা টাচই করে না।’
বাজেট উচ্চাভিলাসী একথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চাভিলাসী এ বাজেট বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে তার আস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারকে তার বিভিন্ন কাজ কর্ম বাড়ানোর জন্য, যেটা আপনার সবাই দাবি করেন এবং তার ওপর নির্ভর করেন। তাকে তো কিছু পয়সা কোনো খান থেকে পেতে হবে। সুতরাং আমরা সব সময় খুঁজি এমন সব সুযোগ এখানে সহজে পয়সা পাওয়া যাবে। আমর মনে হয় মোবাইল থেকে সহজেই এটা পাওয়া যাবে।’
যারা বাজেটের সমালোচনা করছেন তারাও অনুমানের ভিত্তিতেই এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বলেনও জানান মন্ত্রী।
২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে দারিদ্রমুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে একই সঙ্গে বৈষম্য কমছে এবং দারিদ্রও দূর হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৭.৩% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেনঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪কোটি টাকা। ঘাটতি ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।