সীমিত ভূমির যথাযথ ব্যবহার করাটাই এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেল অর্থনীতিবিদদের নতুন সংগঠন বাংলাদেশ ইকোনোমিস্টস ফোরামের প্রথম সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সব ক্ষমতা রেখে ভুমির সদ্ব্যবহার সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জেলা উপজেলা পর্যায়ে দিয়ে আমরা সদ্বব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশার কথা কৃষি ক্ষেত্রে আমাদের উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়েছে, যদি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে আমাদের অগ্রগতি সামান্য হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তর করতে পারলে সেটা যেমন দেশের উন্নয়ন ঘটাবে, তেমনি রপ্তানিও করা যাবে। তবে ভুমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারাকেই বড় সমস্যা হিসেবে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইকোনোমিস্টস ফোরামের প্রথম সম্মেলন দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ মাইকেল লিপটন।
এ সময় তিনি বলেন, প্রতিবছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি কমে যাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং অধিক জনসংখ্যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।
লিপটন বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় কৃষি জমি খুবই কম। যা আছে পাশের দেশের তুললায় কৃষি উৎপাদনশীলতাও কম সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই। সবার আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’
অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজির সংস্থান যেমন জরুরি তার চেয়ে বেশি জরুরি তার ব্যবহার।
তবে মেধার যথাযথ ব্যবহার করতে না পারলে সেটাও সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।