রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত বেসিক ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ। রোববার বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপণ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ধারা ৪৬ (৬) অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হলো।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. মতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ. মজিদকে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক/চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির দিন (রোববার) থেকে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিয়োগ দেয়া হলো।
আলাউদ্দিন এ. মজিদকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, নতুন চেয়ারম্যান রোববারই নিয়োগ করা হবে।
ঋণ কেলেংকারির মুখে শুক্রবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। শনিবার অর্থমন্ত্রী নিজেই তার এ পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে গত মে মাসে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে ঋণ বিতরণ ও নিয়োগ পদোন্নতিতে অনিয়মের দায়ে ২৬ মে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকেও অপসারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আলাউদ্দিন এ মজিদ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকে মহাব্যবস্থাপক হিসাবে যোগদান করেন আলাউদ্দিন এ মজিদ। এরপর ১৯৯৬ সালে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ১৯৯৮ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কৃষি অর্থনীতিবিদ (প্রিন্সিপাল অফিসার) হিসেবে তিনি ব্যাংকিং জীবন শুরু করেন। এরপর ওই ব্যাংকে তিনি উপ মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান।
১৯৯০ সালে তিনি মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব)। ১৯৯২ এর আগস্ট থেকে ১৯৯৩ এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি রাকাবের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।