তোবাসহ ৫টি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস অবিলম্বে পরিশোধের দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিকদের ৩০টি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতীকী অনশন শুরু করেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ অনশন চলে। তবে তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
যতো কষ্টই হোক, পুরো বেতন ও বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
এদিকে, শ্রমিকদের এ অনশনকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষ ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে মুক্তি দিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন তারা। আর সরকার শ্রমিকদের পক্ষে নয়, গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ অনশনরত শ্রমিকদের।
এদিকে, তোবা গ্রুপের শ্রমিকরা তিন মাসের বেতন একসঙ্গে পরিশোধের যে দাবি জানিয়ে আসছেন, তা অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএর সহ সভাপতি।
এদিকে, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতা-কর্মীরা সকালে প্রেসক্লাবে মানবন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হলে বেলা পৌনে ১২টার দিকে সচিবালয়ের ৫ নম্বর ফটকের কাছে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।
এ সময় তারা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে সচিবালয়ের ৫ নম্বর ফটকের সামনেই পথসভা করেন বাম মোর্চার কর্মীরা।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়কারী শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ বাম মোর্চার নেতারা এ পথসভায় বক্তব্য দেন।
এছাড়াও অনশনের শুরুতে বক্তব্য দেন শ্রমিক কর্মচারী লীগ, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফোরাম, জাতীয় শ্রমিক জোট, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন, জাতীয় গার্মেন্টস ও দর্জি শ্রমিক জোট সংগঠনের নেতারা।
তারা অভিযোগ করেন, বিজিএমইএ চাইলেই সংগঠনের কল্যাণ তহবিল থেকে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারত। সরকারও চাইলে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে এ অর্থ দিতে পারত। কিন্তু দুই পক্ষের কারোরই সদিচ্ছা ছিল না। তারা তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ারকে কারাগার থেকে বের করে আনতে শ্রমিকদের জিম্মি করেছে।
এদিকে, সংক্ষুব্ধ নারী সমাজ ও নাগরিক ঐক্য নামের দুটি সংগঠন একই দাবিতে মানববন্ধন পালন করেছে। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় এসব কর্মসূচি ঘিরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল।
তোবা গ্রুপের শ্রমিকেরা আজও অষ্টম দিনের মতো তাদের অনশন অব্যাহত রেখেছেন।
এর আগে গতকাল দিনভর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সংবাদ সম্মেলন করে তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের ৬ আগস্ট দুই মাসের মজুরি দেয়ার ঘোষণা দেয়। আর কারখানা কর্তৃপক্ষ জুলাই মাসের মজুরি দেবে ১০ আগস্ট। একই সঙ্গে তারা এক মাসের ওভারটাইম ও ঈদ বোনাস অনতিবিলম্বে পরিশোধ করবে বলে জানায়। তবে এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন অনশনরত শ্রমিকেরা।
এ সময় তারা বলেন, একসঙ্গে তিন মাসের বেতন-ভাতা না দেয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।
গতকাল পর্যন্ত ৯৯ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। টানা ৮দিনের (সোমবার) অনশনে এ পর্যন্ত ১০১ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আর তাদের মধ্যে ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
তোবাকর্মীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং ঈদের বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ, তোবা গ্রুপের দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সব কারখানা সচল রাখা, যে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদের সরকারিভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, তোবা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিল এবং তাজরীন গার্মেন্টসে হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া।