কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর তোবা গ্রুপের প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের সুবিধা না দেয়ার চেষ্টা করছেন মালিক পক্ষ।
মালিকপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের আন্দোলন বৈধ ছিল না। আর শ্রমিকদের দাবি তাদের ন্যায্য পাওনা না দিতেই মালিকপক্ষ তাদের আন্দোলনকে অবৈধ বলছে।
বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন অনশন করার একপর্যায়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন। এরমধ্যে বিজিএমইএ বেতন পরিশোধ করে তোবাসহ ৫টি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের। তারপরই তোবা গ্রুপের মালিক তার পাঁচটি কারখানাই বন্ধ করে দেয়া হয়। মুহূর্তেই বেকার হয়ে পড়েন দেড় হাজার শ্রমিক। তাদের কোনো সুবিধাও দেয়া হচ্ছে না। মালিকরা বলছেন, শ্রমিকদের এ আন্দোলন ছিল অবৈধ।
শ্রম আইনের যে ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয় তাতে বলা হয়েছে, অনৈতিক কোনো কারণে আন্দোলন করলে শ্রমিকদের কোনো রকম আর্থিক সুবিধা না দিয়ে মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করতে পারবে। বেতনের দাবিতে আন্দোলন করা অনৈতিক কিনা এ প্রশ্নে বিজিএমইএ নেতারা।
বিজিএমই এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান বলেন, ‘ধর্মঘটের একটা নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তারা ধর্মঘট করেছে বহিরাগত শ্রমিকদের নেতৃত্বে। যদি কোনো কারখানায় অবৈধ ধর্মঘট হয় তাহলে ১৩ এর ৮ ধারায় বন্ধ করতে পারে।’
অবশ্য শ্রমিক নেতারা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনোভাবেই অবৈধ নয়। মালিকপক্ষ তাদের নায্য পাওনা দিতে চায় না বলে এমন ষড়যন্ত্র করছেন।
বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ধর্মঘটটা বেআইনী হলে জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে বলছেন ১৩ এর ১ ধারা বন্ধ করলেন। তাহলে শ্রমিকরা পূর্ণাঙ্গ বেতন পেলেন এবং জুলাই মাসের এবং ওভার টাইমসহ চলতি মাসের ১০ তারিখে তা দেয়া হলো। কিভাবে দেয়া হলো? মালিক একদিকে বলছেন বেআইনী ধর্মঘট করে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে আবার মালিক কিন্তু পরবর্তী মাস পর্যন্ত বেতন দিয়েছেন। তাহলে এ ধরনের ঘোষণা সম্পূর্ণ বেআইনী ঘোষণা।’
তোবার মালিক এরইমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, শ্রমিকরা ঈদ বোনাস পাচ্ছেন না। সবকিছুই আইন অনুযায়ীই করা হচ্ছে বলে তার দাবি।
তোবা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মে মাসের বেতনটা জুনের ৯ তারিখ থেকে ১০ তারিখ দেয়া হয়েছে। ৯ তারিখ বিকেল থেকে দেয়া শুরু হয়ে ১০ তারিখে তা বন্ধ হলো। আইনানুযায়ী ব্যবস্থা আমরা নেব।’