দেশের সরকারি-বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে আছে বেসিক, সোনালী ও রূপালীসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৫টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০১৩ অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতের মোট ঝুঁকির প্রায় ৩৩% এ পাঁচটি ব্যাংকের দখলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অদক্ষতা ও অস্বচ্ছতার কারণেই এ ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা। তবে এতো কিছুর পরও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
সোনালী ব্যাংকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির পর বেসিক ব্যাংকে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা আর্থিক জালিয়াতি ধরা পড়ে। যদিও জালিয়াতির তালিকায় পিছিয়ে নেই সরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য ব্যাংকগুলোও। এসব দুর্নীতি ও জালিয়াতি নাজুক অবস্থায় নামিয়ে এনেছে দেশের একসময়কার সবচেয়ে শক্তিশালী এ ব্যাংকগুলো।
এমন চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে-২০১৩ তে।
প্রতিবেদনে বলা আরো হয়েছে, এসব ব্যাংক লেনদেনে যেমন অস্বচ্ছ, ব্যাংক পরিচালনায় তেমনি অদক্ষ। যার কারণে বেড়েছে খেলাপী ও শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে এসব ব্যাংক এখন ভালোর দিকেই এগুচ্ছে।
এ সময়ে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল বলেও দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। প্রায় বছর জুড়ে চলা সহিংস রাজনীতির পরেও কলমানি রেট ও মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে দাবি তাদের। এর পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য সূচকে অনেক উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনৈতিক সূচকে অগ্রগতির পরও, আর্থিক জালিয়াতি এবং প্রকৃত জিডিপি কমে যাওয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।