জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি না হলেও, বিপুল সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ-বেল্ট বা বিগ-বি বাস্তবায়িত হলে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অনেক বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
তারা বলছেন, এতে করে রপ্তানি বাজারের যেমন প্রসার ঘটবে তেমনি বাড়বে দেশের অভ্যন্তরিন বাজার। এ সুযোগ কাজে লাগাতে নীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জল-স্থল উভয় জায়গায়তেই বিনিয়োগের আগ্রহ দেখালেন, দেশটির সরকার ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বিগ-বি এর আওতায়, জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগ, ঢাকা-চট্রগ্রাম বেল্টে শিল্পায়ন এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন জাপানের ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলন, প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সফরের ফল পেতে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে বিগ-বি বাস্তবায়িত হলে, দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যাবসা-বাণিজ্য নতুন মাত্রা পাবে।
শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিন শিথীল করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও দেশের সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগিয়ে, বু ইকোমোনি বা সাগর অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে জাপান। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন জাপানের সঙ্গে এ সব বিষয়ে তারা যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী।
আর এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সেবার মান উন্নয়ন এবং সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন তারা।
তারা বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের এধরণের সফর থেকে তাৎক্ষণিক কিছু সাধারণত পাওয়া যায়না।
আর জাপানি প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহারে তাদের মনে হয়েছে, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পুরণ হবে।