বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে যে আঞ্চলিক মেরুকরণ চলছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সে বিষয়টি সমন্বয় করে কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তারা এ পরামর্শ দেন।
সভায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাশাপাশি মুল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ভয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি না দিয়ে বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি প্রণয়নের কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নির্ধারিত ৯টি সূচকে লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জন করতে না পারলেও তা সন্তোষজনক বলে দাবি সরকারের।
বিশ্বকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই হবে না— এ কথা উল্লেখ করে ড. মুস্তাফিজুর রহমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় নেয়ারও পরামর্শ দেন।
সভায় শিক্ষার মান ও দক্ষতা উন্নয়ন, বিএসটিআইকে বিশ্বমানে উন্নীতকরণ, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের বিশেষ কৌশল সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা।
তবে গুরুত্ব অনেক বেশি গুরুত্ব পায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশলগত দিক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘আমি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি করবো আবার প্রবৃদ্ধিও চাইবো এ দুটা তো একসঙ্গে হতে পারে না। আমি যদি প্রবৃদ্ধি বেশি করে করতে পারি বিশেষ করে যে সমস্ত জায়গায় দক্ষ জনশক্তি আছে তাহলে মুদ্রানীতিকে সংকোচন করার কোনো দরকার নেই। সম্প্রসারণ মুদ্রানীতি আমাদের দেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।’
আগামী বছরের মাঝামাঝিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অনুমোদনের পর সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শুরু হবে।
এ আলোকেই সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। এ পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরত্ব পাচ্ছে মানুষের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।