আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারসহ ৪ দেশিয় অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৪টি দেশই প্রস্তুত বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। শনিবার বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ইস্ট এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, এ করিডোর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য উন্মুক্ত করবে সীমাহীন সম্ভবনার দ্বার। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তা কাজে লাগাতে আরও বেশি গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির তাগিদ দেয়া হয়েছে।
বিসিআইএম আন্তর্জাতিক এ নেটওয়ার্ককে সংশ্লিষ্টদেশগুলোর অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত চু কোয়াংযু বলেন, ‘বিসিআইএম খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অর্থনৈতিকভাবে ৪টি দেশই লাভবান হবে। চীন বিষয়টি নিয়ে অনেক দূর এগিয়েছে।’
মিয়ানারের রাষ্ট্রদূত মিও মিন্ট থান বলেন, ‘এ প্রকল্প আন্তঃরাষ্ট্রীয় কানেকটিভিটি অর্থ্যাৎ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও অর্থনৈতিক করিডোর ফোরাম মূখ্য ভূমিকা পালন করবে।’
তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী।
প্রসঙ্গত, চীন-ভারতসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ঠিক মাঝে বাংলাদেশ যে কারণে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে অবকাঠামো জোরদার করতে একটি অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের কথা ওঠে ১৯৯৯ সালে।
ওই বছরেরই চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং'এ অনুষ্ঠিত হয় এর প্রথম সভা। প্রস্তাব আসে কুনমিং থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের। যার সঙ্গে যুক্ত হবে মিয়ানমারে মান্দালয় ও বাংলাদেশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।