ঈদের আগেই কোরবানির পশুর চামড়ার দাম ঠিক করে দিতে রাজী নয় চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা। তাদের ধারনা, চামড়ার দাম গেল বছরের মতোই থাকবে।
মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমছে।
আর ছোট ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার কোরবানির চামড়ার দাম বেশি হওয়া উচিত কারণ গতবারের চেয়ে এ বছর প্রতি পিস গরুর চামড়ার দাম গড়ে ৫ থেকে ৬০০ টাকা বেশি। তাদের আশংকা নায্য মুল্য না মিললে, পাশের দেশ ভারতে চামড়া পাচার হবে।
এদিকে, সারাদেশের কোরবানির পশুর চামড়া গিয়ে জমা হয় রাজধানীর পোস্তার আড়ৎগুলোতে। তাই কোরবানির আগে আড়ৎগুলো এবার প্রায় ফাঁকা।
আড়ৎ মালিকরা বলছেন, চামড়ার চাহিদা থাকায় আড়তে মজুদ চামড়া নেই তাই সবই বিক্রি হয়ে গেছে। দামও অন্য বছরের তুলনায় বেশি আর কোরবানির পশুর চামড়া সবচেয়ে ভাল মানের হওয়ায়, তার চাহিদা এবং দামও অনেক বেশি।
তবে ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের মুখে উল্টো সুর।
তাদের দাবি, সারা বছর ধরেই বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম বেশ উঠা-নামার মধ্য দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দাম আরো কমেছে তাই এ অবস্থায় এবার কোরবানির আগেই কোন দাম নিদৃষ্ট করা ঠিক হবে না।
এছাড়া, পোস্তার আড়ৎ থেকে প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর চামড়া যায় হাজারীবাগের ট্যানারীগুলোতে। দাম নিয়ে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি, ট্যানারি মালিক সমিতি ও রপ্তানিকারক সমিতি, সবার কণ্ঠে একই সুর।
এবারের ঈদে ৩৫ হাজার গরুসহ প্রায় দুই কোটি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃত ভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করলে, বেশি দামের কারণে ভারতে পাচার হওয়ার আশংকাও করছেন অনেকে।